পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ২৩ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৯তম ‘রোজগার মেলা’-য় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত তরুণ-তরুণীদের হাতে ৫১,০০০-এরও বেশি নিয়োগপত্র তুলে দেন। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি এই দিনটিকে সারা দেশের হাজার হাজার তরুণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। সরকারি চাকরিতে নবনিযুক্তদের স্বাগত জানিয়ে তিনি রেল, ব্যাংকিং, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা – সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের উন্নয়নে আগামীদিনে তাঁদের অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, “আগামী বছরগুলোতে আপনারা সবাই একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”
এই নিয়োগপ্রাপ্তদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠাপূর্ণ প্রস্তুতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন যে, কোনো ব্যক্তিগত সাফল্যই এককভাবে অর্জিত হয় না। তিনি সেইসব পরিবার ও অভিভাবকদেরও শুভকামনা জানান, যাঁদের সমর্থন এই যাত্রাপথে অপরিহার্য ছিল।
সম্প্রতি সমাপ্ত পাঁচ-দেশব্যাপী এক কূটনৈতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষকর্তারা ভারতের তরুণ সমাজ এবং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিষয়ে যে গভীর উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন, তা এই সফরে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখতে পাওয়া গেছে। তিনি এমন এক বিশ্বের কথা বর্ণনা করেন, যা ভারতের উত্থান ও অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে অত্যন্ত আগ্রহী। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, “বিশ্ব ভারতের উন্নয়ন যাত্রার অংশ হতে চায়।”
এই সফরের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফলাফলগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফর করা প্রতিটি দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পাদিত চুক্তি এবং আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, জলসম্পদ, কৃষি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প নিয়ে আলোচনা; সুইডেনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল উদ্ভাবন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা, নরওয়ের সঙ্গে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (ইউএই) সঙ্গে কৌশলগত শক্তি ও প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ইতালির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক চুক্তি সম্পাদন। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্টভাবে জানান যে, ভারতের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বগুলো এমনভাবে সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো দেশের তরুণ সমাজের কল্যাণ সাধন করা। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের তরুণরা যেন কর্মসংস্থান এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পায়।”
প্রতিটি চুক্তির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যক্ষ সম্পর্কটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি নতুন বিনিয়োগ, প্রতিটি প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং প্রতিটি শিল্প-সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত ভারতের তরুণ সমাজের জন্য নতুন নতুন সুযোগের সৃষ্টি করে। তিনি এই সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলোর সুদূরপ্রসারী গুরুত্বের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, “আগামী ২৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের নির্ধারক শিল্পগুলোকে রূপ দেবে এই ক্ষেত্রগুলো।”
একটি বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশীদার হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান মর্যাদার একটি মূর্ত উদাহরণ হিসেবে এএসএমএল-টাটা ইলেকট্রনিক্স চুক্তিটির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বিশ্বের হাতেগোনা যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ডাচ সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্টটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, ভারত তাদেরই অন্যতম। তিনি আরও বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে সুইডেনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং সুপারকম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (ইউএই) সঙ্গে সহযোগিতা একইভাবে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে। শ্রী মোদী বলেন, “শুধুমাত্র এই একটি চুক্তিই ভারতে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”
বিপুল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে পরিচ্ছন্ন শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, সবুজ হাইড্রোজেন এবং টেকসই উৎপাদনের দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ রূপান্তর এবং টেকসই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন উৎপাদন শিল্পে ভারতকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এই অংশীদারিত্বগুলো একটি নতুন অর্থনীতির এবং নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করছে।”
বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং সামুদ্রিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর কাজে যে গতি সঞ্চার হয়েছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও নরওয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ভারতের জাহাজ নির্মাণ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে। এটি সরাসরি দেশের প্রকৌশলী, কারিগরি কর্মী এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য সুযোগের পরিধিকে প্রসারিত করবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের প্রকৌশলী, কারিগরি কর্মী এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন প্রতিটি নতুন অংশীদারিত্ব একইসঙ্গে ভারতের স্টার্টআপ, গবেষক এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক সংযোগের পরিধিকে বিস্তৃত করে। তিনি এমন এক বিশ্বের কথা তুলে ধরেন, যা বর্তমানে সেইসব দেশকে শ্রদ্ধা জানায় যারা উদ্ভাবন করে, নির্মাণ করে এবং বৃহৎ পরিসরে তা বাস্তবায়ন করে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে, ভারত এই তিনটি ক্ষেত্রেই সমানতালে এগিয়ে চলেছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এই রূপান্তরের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভারতের যুবসমাজ – অর্থাৎ আপনারা সবাই।”
এই মুহূর্তটিকে বৃহত্তর জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে একসূত্রে গেঁথে প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত ভারত’ (বিকশিত ভারত) গড়ে তোলার সম্মিলিত সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের বিনিয়োগ লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এই বিনিয়োগ দেশের যুবসমাজের জন্য লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।”
ভারতের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থার বিশাল পরিসরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, দশটি বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ইউনিট শীঘ্রই আন্তর্জাতিকমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নেবে এবং ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক তরুণ ভারতীয় সেখানে কর্মসংস্থান পেয়েছেন। শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটগুলো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের স্বতন্ত্র ছাপ রাখবে”।
প্রায় ৭৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে ভারতের ক্রমবর্ধমান জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত এবং ওভারহলিং ব্যবস্থার দপ্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এমআরও’ ব্যবস্থা বিকাশের বিষয়টিও তুলে ধরেন। রক্ষণাবেক্ষণ, ওভারহলিং এবং মেরামতের সুবিধাসমূহ নিয়ে গঠিত এই ব্যবস্থাটি ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রকে আমূল বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বহন করে। শ্রী মোদী বলেন,“ভারতের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে”।
একটি প্রধান ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারতের উত্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘উৎপাদন-সংযুক্ত উৎসাহ প্রকল্প’ -কে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করা চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শ্রী মোদী বলেন, “পিএলআই প্রকল্পের সুবাদেই দেশে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে।”
সরকারি ও বেসরকারি – উভয় ক্ষেত্রই যে যৌথভাবে এই বহুমুখী উদ্যোগগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, সেই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নিজেদের ভূমিকার ব্যাপারে সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানান। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ব্যবসা করার সহজ পরিবেশ সৃষ্টি করা দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।”
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিকাঠামোর মৌলিক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, যখন গ্রাম, ছোট শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো উন্নয়নের মূল ধারার সঙ্গে একীভূত হয় তখনই জাতীয় অগ্রগতির প্রকৃত সুফল পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। শ্রী মোদী বলেন, “যখন গ্রাম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখনই দেশের অগ্রগতির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।”
গত বারো বছরে রেলওয়ে, মহাসড়ক, বিমানবন্দর, লজিস্টিকস, বন্দর এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক – এমন বহুমুখী ক্ষেত্রে যে বিশাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই ‘কানেক্টিভিটি’ বা সংযোগ ব্যবস্থা কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থী – সকলের জন্যই নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এই রূপান্তরের ছোঁয়া এখন ভারতের গ্রামগুলোকেও দৃশ্যত নতুনভাবে সাজিয়ে তুলছে। শ্রী মোদী বলেন, “এমনকি গ্রামগুলোতেও এখন পরিবর্তনের হাওয়া দৃশ্যত এবং দ্রুতগতিতে বইছে।”
কোটি কোটি ভারতীয় পরিবারে এখন স্থায়ী বাসস্থান, বাড়িতেই শৌচাগার, বিদ্যুৎ এবং ট্যাপের মাধ্যমে পানীয় জল – পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সেকথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মৌলিক পরিবর্তনগুলোর তাৎপর্য কেবল দৈনন্দিন সুবিধাপ্রাপ্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আরও অনেক গভীরে প্রোথিত। শ্রী মোদী বলেন, “এই পরিবর্তনগুলোর প্রভাব কেবলই কিছু সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।”
গ্রামীণ সড়ক, উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সংযোগ – কীভাবে এই প্রতিটি বিষয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে, কীভাবে এগুলি বাজারের নাগাল পাওয়া সহজ করেছে, ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এবং গ্রামগুলোকে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে – তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত উন্নয়নগুলো সম্মিলিতভাবে ভারতের অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করেছে এবং লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শ্রী মোদী বলেন, “এই সমস্ত কিছুরই কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”
উৎপাদন, প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ডিজিটাল পরিষেবা, রেলওয়ে, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ – এই প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতের তরুণদের জন্য বর্তমানে যে সুযোগগুলো উন্মুক্ত হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বাধিক সংখ্যক তরুণ-তরুণী যেন এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে এবং তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে সে বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের তরুণদের সামনে আজ তাদের স্বপ্ন পূরণের যে সুযোগ রয়েছে, তা আগে কখনোই ছিল না।”
আইটিআই-গুলোর আধুনিকীকরণ, ‘ন্যাশনাল স্কিল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’-গুলোর শক্তিশালীকরণ এবং ‘পিএম সেতু’ উদ্যোগের সূচনা – সহ দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে সরকারের বর্তমান বিনিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির ওপর ক্রমাগত গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।”
সারা দেশ জুড়ে স্ব-কর্মসংস্থান এবং উদ্যোগী হওয়ার এক নতুন সংস্কৃতির উত্থানকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ‘স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি স্বীকৃত স্টার্টআপ রয়েছে। তিনি বলেন এই রূপান্তর এখন আর কেবল মহানগরগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শ্রী মোদী বলেন “এই পরিবর্তন এখন আর কেবল বড় শহরগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।”
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলোর তরুণরা যে বিপুল সংখ্যায় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের জগতে প্রবেশ করছে এবং এই আন্দোলন যে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে – তা গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের জোয়ারে ভারতের মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ও নির্ণায়ক ভূমিকার ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। ‘মুদ্রা যোজনা’-র মাধ্যমে কোটি কোটি নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং ‘পিএম স্বনিধি’-র মতো প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে অর্জিত আত্মনির্ভরশীলতাকে স্বীকৃতি জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, “আজ গ্রাম ও ছোট শহরগুলোতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক সংখ্যক মহিলা সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে নতুন নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করছেন।” প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্তদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার কর্মীদের মাঝেই, আর যে ব্যবস্থায় তাঁরা যোগ দিচ্ছেন, তা কোটি কোটি নাগরিকের জীবনের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড় ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তিনি বলেন, একটি সরকারি চাকরি হলো সবার আগে মানুষের জীবনকে সহজতর করে তোলার একটি মাধ্যম। শ্রী মোদী বলেন, “আপনারা যে বিভাগেই কর্মরত থাকুন না কেন, আপনাদের আচরণ, সহমর্মিতা এবং কাজের ধরণ – সবকিছুরই গুরুত্ব হবে অপরিসীম।”
নবনিযুক্তদের প্রতি দেশের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি তরুণ ‘কর্মযোগী’কে তাদের পদকে একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখার, ভারতের জনগণের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষাগুলো অনুধাবন করার এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের কাজের ধারা বিন্যস্ত করার আহ্বান জানান। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এখন আপনাদের কাজের মাধ্যমেই সেই আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করা আপনাদের দায়িত্ব।”
নতুন সরকারি কর্মচারীদের আজীবন শিক্ষার প্রতি এবং নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে ক্রমাগত মানিয়ে নেওয়ার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘iGOT কর্মযোগী প্ল্যাটফর্ম’ এবং ‘কর্মযোগী প্রারম্ভ’ মডিউলটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এগুলিকে এমন শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন, যা তাদের নিজেদের দায়িত্বগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অনুধাবন ও পালন করতে সহায়তা করবে। শ্রী মোদী বলেন, “এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।”
কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার এক অনুপ্রেরণাদায়ক আহ্বানের মধ্য দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। আজ যারা নিয়োগপত্র গ্রহণ করছেন সেই তরুণদের অন্তরের উদ্দীপনা ও বিদ্যমান শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে ভারতের যুবসমাজ বিশ্বজুড়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে চলবে বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন এই উদ্দীপনাই তাদের জনসেবামূলক কাজকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন,“নিজেদের কাজকে দেশসেবারই একটি মাধ্যম হিসেবে যারা গণ্য করেন সেইসব তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে উঠবে,।”
এই নবনিযুক্তরা ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় এক নতুন গতিসঞ্চার করবেন এবং তাদের কাজ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প পূর্ণ হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আবারও আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি নিয়োগপত্র গ্রহণকারী সকল তরুণ-তরুণীকে তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
SC/PM/AS
India’s youth are playing a vital role in accelerating the journey towards a Viksit Bharat. Rozgar Mela reflects our Government’s commitment to empowering the Yuva Shakti with new opportunities.
— Narendra Modi (@narendramodi) May 23, 2026
https://t.co/u3CQqgrluM
दुनिया भारत के युवाओं और भारत की technological progress को लेकर बहुत उत्साहित है।
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2026
आज दुनिया भारत की विकास यात्रा का हिस्सा बनना चाहती है: PM @narendramodi
आज clean energy, critical minerals, green hydrogen और sustainable manufacturing से जुड़े sectors भी तेजी से आगे बढ़ रहे हैं।
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2026
इनसे जुड़ी partnership एक नई economy के...new opportunities के दरवाजे खोल रही हैं: PM @narendramodi
आज हर भारतीय एक बड़े संकल्प के साथ आगे बढ़ रहा है। ये संकल्प, 2047 तक विकसित भारत के निर्माण का है।
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2026
इस लक्ष्य की प्राप्ति के लिए आज देश अलग-अलग sectors में निवेश कर रहा है और इस निवेश से देश के युवाओं के लिए रोजगार के लाखों नए अवसर बन रहे हैं: PM @narendramodi
आज गांवों में भी बदलाव तेजी से दिखाई दे रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2026
Connectivity बढ़ने से किसानों, छोटे व्यापारियों, विद्यार्थियों के लिए नए रास्ते खुले हैं: PM @narendramodi
आज भारत का युवा दुनिया के हर क्षेत्र में अपनी पहचान बना रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2026
यही spirit, यही ऊर्जा public service में भी दिखाई देनी चाहिए।
विकसित भारत ऐसे ही युवाओं के प्रयास से बनेगा, जो अपने काम को देशसेवा का माध्यम मानते हैं: PM @narendramodi