পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ৯ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৬ সালের ১০ই মে কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানা সফর করবেন। সকাল প্রায় ১১টায়, প্রধানমন্ত্রী বেঙ্গালুরুতে ‘দ্য আর্ট অফ লিভিং’-এর ৪৫তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং এই উপলক্ষে সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এরপর, প্রধানমন্ত্রী হায়দ্রাবাদ যাবেন এবং বিকেল প্রায় ৩টায়, তিনি প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এই উপলক্ষে তিনিও সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। বিকেল প্রায় ৩:৪৫ মিনিটে, প্রধানমন্ত্রী হায়দ্রাবাদের ‘সিন্ধু হাসপাতাল’ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন।
বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী
১৯৮১ সালে গুরুদেব শ্রী শ্রী রবি শঙ্কর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য আর্ট অফ লিভিং’ বর্তমানে ১৮২টি দেশে বিস্তৃত একটি বিশ্বব্যাপী, স্বেচ্ছাসেবক-চালিত মানবিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই সংস্থার ৪৫তম বার্ষিকী উদযাপন এবং গুরুদেব শ্রী শ্রী রবি শঙ্করের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ‘দ্য আর্ট অফ লিভিং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার’-এ নবনির্মিত ‘ধ্যান মন্দির’-এরও উদ্বোধন করবেন; এটি একটি বিশেষ ধ্যানের কক্ষ, যা অভ্যন্তরীণ শান্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতার একটি স্থান হিসেবে পরিকল্পিত। তিনি ‘দ্য আর্ট অফ লিভিং’-এর দেশব্যাপী সেবামূলক উদ্যোগগুলোরও সূচনা করবেন, যার আওতায় মানসিক সুস্থতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং সামাজিক রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে বছরব্যাপী বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালিত হবে।
হায়দ্রাবাদে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এই প্রকল্পগুলোর সম্মিলিত লক্ষ্য হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, লজিস্টিক বা পরিবহন ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের আরও উন্নত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী হায়দ্রাবাদ-পানাজি অর্থনৈতিক করিডোরের অন্তর্গত গুডেবেল্লুর থেকে মাহবুবনগর পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক-১৬৭-এর চার-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন; এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,১৭৫ কোটি টাকারও বেশি। এই প্রকল্পটি যানচলাচলকে মসৃণ, নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন করে তুলবে; এর ফলে ভ্রমণের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট কমে আসবে এবং একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ ও যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও হ্রাস পাবে। এই মহাসড়কটি তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করবে এবং উভয় রাজ্যের শিল্প উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী সাঙ্গারেড্ডি জেলায় অবস্থিত জহিরাবাদ শিল্প এলাকার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন। এই শিল্প এলাকাটি ‘জাতীয় শিল্প করিডোর উন্নয়ন কর্মসূচি’-র অংশ হিসেবে ‘হায়দ্রাবাদ-নাগপুর শিল্প করিডোর’-এর অধীনে গড়ে তোলা হচ্ছে। ৩,২৪৫ একর জায়গা জুড়ে ২,৩৫০ কোটি টাকারও বেশি মোট ব্যয়ে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে এনএইচ-৬৫ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত; এটি প্রধান শহর, বন্দর, রেল নেটওয়ার্ক এবং বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও বহুমুখী সংযোগ সুবিধা প্রদান করবে।
একটি ‘স্মার্ট ও সমন্বিত শিল্প নগরী’ হিসেবে পরিকল্পিত জহিরাবাদ শিল্প এলাকায় উন্নত ও সুস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা আগামী প্রজন্মের শিল্পগুলোকে সহায়তা প্রদান করবে। এখানে যেসব মূল শিল্পখাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, যন্ত্রপাতি, ধাতু এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। আশা করা হচ্ছে, এই প্রকল্পটি প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী ওয়ারাঙ্গলে অবস্থিত ‘পিএম মিত্র পার্ক’-এর উদ্বোধন করবেন; এটি ‘কাকতীয় মেগা টেক্সটাইল পার্ক’ নামেও পরিচিত এবং এটি পিএম মিত্র প্রকল্প’-এর অধীনে গড়ে তোলা হয়েছে। আনুমানিক ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কটি ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ‘পিএম মিত্র পার্ক’। এটি ভারত সরকারের ‘৫এফ’ (ফার্ম টু ফাইবার টু ফ্যাক্টরি টু ফ্যাশন টু ফরেন)—অর্থাৎ ‘খামার থেকে তন্তু, তন্তু থেকে কারখানা, কারখানা থেকে ফ্যাশন এবং ফ্যাশন থেকে বিদেশ’ – দর্শনটিকে বাস্তবে রূপায়িত করে। প্রস্তাবিত ‘নাগপুর-বিজয়ওয়াড়া গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে’ (এনএইচ-১৬৩জি)-এর সন্নিকটে এবং এনএইচ-১৬৩-এর খুব কাছে কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত এই পার্কটি প্রধান রেল নেটওয়ার্ক এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর সঙ্গে চমৎকার বহুমুখী সংযোগ সুবিধা প্রদান করে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য নিরবচ্ছিন্ন পণ্য পরিবহন (লজিস্টিকস) নিশ্চিত করে। একটি বিশ্বমানের শিল্প-বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পরিকল্পিত এই পার্কটি অত্যাধুনিক পরিকাঠামোয় সুসজ্জিত; এর মধ্যে রয়েছে একটি বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, নিজস্ব বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং নিশ্চিত জল সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া, ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ একটি ‘কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ (বর্জ্য জল পরিশোধন কেন্দ্র)-এর মাধ্যমে এটি টেকসই উন্নয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।
প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১,৫৩৫ কোটি টাকা মূল্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিকাঠামো প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এর মধ্যে কাজিপেট-বিজয়ওয়াড়া মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের একাধিক অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ১১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই প্রকল্পটি অত্যন্ত ব্যস্ত ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক করিডোর’-এ রেললাইনের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে; যার ফলে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত হবে, যানজট কমবে, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে এবং সমগ্র অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের (ফ্রেইট ট্রাফিক) পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও, ‘কাজিপেট রেল আন্ডার রেল বাইপাস’ প্রকল্পটিও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। এই কৌশলগত প্রকল্পটি কাজিপেট জংশনের ওপর থেকে যানজটের চাপ কমাবে; কারণ এর ফলে হায়দ্রাবাদ, বলহারশাহ এবং বিজয়ওয়াড়ার দিকে একই সময়ে ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে। এর ফলে রেল পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং ট্রেন চলাচলে বিলম্বের ঘটনা হ্রাস পাবে।
প্রধানমন্ত্রী হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ‘ইন্ডিয়ান অয়েল’-এর ‘মালকাপুর টার্মিনাল প্রকল্প’টিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন, যা ৬০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই মালকাপুর টার্মিনালটি স্থাপন করা হয়েছে। এই টার্মিনালটির মোট ধারণক্ষমতা ১,৬৫,০০০ কিলোলিটার।
ভারতের স্বাস্থ্য- পরিষেবা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ‘সিন্ধু হাসপাতাল’টিও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এটি একটি অত্যাধুনিক, মূলত ক্যান্সার চিকিৎসার ওপর নিবদ্ধ, মাল্টি-সুপার স্পেশালিটি এবং চতুর্থ স্তরের সেবা প্রদানকারী একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ১৮ তলা বিশিষ্ট এবং ২১ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই হাসপাতালে ১,৫০০টি শয্যা, ১৫০টিরও বেশি ডাক্তারী পরামর্শ কক্ষ এবং ২৯টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। এই হাসপাতালে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন, উন্নত মানের নিবিড় পরিচর্যা এবং ৩৩টিরও বেশি বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবাসহ ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা, আধুনিক গবেষণাগার এবং ব্লাড সেন্টার বা রক্তদান কেন্দ্রের সুযোগ-সুবিধা এই চিকিৎসা সেবাসমূহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এই প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রীর সেই দূরদৃষ্টিরই প্রতিফলন, যার মূলমন্ত্র হলো – ‘বিকশিত ভারতের জন্য বিকশিত তেলেঙ্গানা’। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল লক্ষ্য হলো সমন্বিত পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন ও অধিকতর সংযুক্ত জাতি গঠন করা।
SC/SB/AS