পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার ২-৪ সেপ্টেম্বর ভারত সফর করছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন, সরকারি আধিকারিক ও ব্যবসায়ী নেতৃত্বের এক উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডি ওয়েভারের এটাই প্রথম ভারত সফর।
প্রধানমন্ত্রী ডি ওয়েভার রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাঁর সফর শুরু করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। প্রথমে একক পর্যায়ে এবং পরে প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। তাঁদের আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়গুলো স্থান পায়।শ্রী মোদী বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী এবং সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।
উভয় নেতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্ল্যান্ডার্স ফিল্ডস-এ ৯,০০০-এরও বেশি ভারতীয় সৈন্যের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম ছিল অন্যতম। অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক বিশ্বাস, অর্থনৈতিক পরিপূরকতা এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এই অংশীদারিত্ব সময়ের সঙ্গে আরও বিকশিত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ এই বহুমুখী সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত ও গভীরতা দেওয়ার ব্যাপারে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। ২০২৭ সালে বেলজিয়াম-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৮০তম বার্ষিকী ভারত ও বেলজিয়ামের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর প্রসারে তা ঐতিহাসিক সুযোগ করে দেবে বলে তাঁরা জানান।
উভয় নেতাই ১৫ জুলাই ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত প্রথম ভারত-বেলজিয়াম কৌশলগত ডায়ালগের সূচনাকে স্বাগত জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এবং বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী যৌথভাবে এই ডায়ালগের সভাপতিত্ব করেন। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলগত অংশীদারিত্বের বৃহত্তর কাঠামোর আওতায় আয়োজিত এই ডায়ালগটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পরিবেশ বান্ধব রূপান্তর প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি পথ গড়ে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, কৌশলগত আলোচনার আওতায় অগ্রাধিকারগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আসন্ন বিদেশ বিষয়ক পরামর্শ সভাকে স্বাগত জানানো হয়।
উভয় নেতা একটি ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজায় রাখা, জরুরি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তি ও অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রসংঘের সনদের ওপর ভিত্তি করে—একটি সংস্কারমূলক ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ডাক দিয়েছেন। বিশেষ করে, বর্তমান বিশ্বের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁরা জোর দেন। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের প্রতি বেলজিয়াম সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশ রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য একে অপরের প্রার্থীকেও সমর্থন করতে তাঁরা সম্মত হন। ভারত ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য এবং বেলজিয়াম ২০৩৭-৩৮ মেয়াদের জন্য প্রার্থী দিচ্ছে।
উভয় প্রধানমন্ত্রী ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-র আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াকে স্বাগত জানান। এর পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) বিষয়ক চুক্তি-র আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-কে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে, তাঁরা এর সময়োপযোগী বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মূল্য-শৃঙ্খলের বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার উন্মুক্ত করার মধ্যে দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
উভয় পক্ষ ২০৩০ সালের জন্য যৌথ ভারত-ইইউ ব্যাপক কৌশলগত বিষয়গুলিকেও অনুমোদন করেছে।এর লক্ষ্য হলো ভারত-ইইউ সহযোগিতাকে বিস্তৃত ও গভীর করার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং উভয় অংশীদার ও বৃহত্তর বিশ্বের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক, সুনির্দিষ্ট ও রূপান্তরমূলক ফলাফল প্রদান করা। তাঁরা বলেন, ভারত-ইইউ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি, সাইবার ও হাইব্রিড হুমকি, মহাকাশ এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যক্রমসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বেলজিয়াম এবং আগামী বছরগুলিতে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে, উভয় নেতাই পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্বের প্রভূত সুযোগ রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। আগামী ৫ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রধান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
দুই প্রধানমন্ত্রী রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের নেতৃত্বে ২০২৫-এর মার্চে ভারতে বেলজিয়ামের সফল অর্থনৈতিক মিশনের উল্লেখ করেছেন।
উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের বৃদ্ধি ও বৈচিত্রায়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেমিকন্ডাক্টর, রাসায়নিক, ঔষধশিল্প, প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহার, টেকসই শিল্প এবং পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণকে স্বাগত জানান। উভয় নেতা অ্যান্টওয়ার্পের সঙ্গে মুম্বাই ও সুরাটের সংযোগকারী হীরার বাণিজ্যের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্বের কথা স্বীকার করেন।
তাঁরা দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ও বন্দর সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বন্দর উন্নয়ন, লজিস্টিকস, সংযোগ, ড্রেজিং ও অফশোর উইন্ড অবকাঠামোতে সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগকে স্বাগত জানান। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা ২০২৬ সালের অক্টোবরে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাগরমন্থন দ্য গ্রেট ওশেনস ডায়ালগ-এ ফ্লেমিশ গতিশীলতা ও বন্দর মন্ত্রী অ্যানিক ডি রিডারের পরিকল্পিত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। তাঁরা অ্যাপেক (অ্যান্টওয়ার্প/ফ্ল্যান্ডার্স পোর্ট ট্রেনিং সেন্টার) এবং ভারতের জওহরলাল নেহেরু পোর্ট অথরিটি (জেএনপিএ)-এর মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার সম্ভাবনাকেও স্বাগত জানান।
দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতাকে স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন যে, ২০২৫-এর মার্চে ভারতে বেলজিয়ামের অর্থনৈতিক মিশনের সময় এই ধরনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়েছিল। প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, যৌথ উন্নয়ন এবং যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে, উভয় নেতাই বেলজিয়াম ও ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পগুলোর মধ্যে একাধিক চুক্তি ও অংশীদারিত্ব স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান এবং উভয় পক্ষের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত থাকার জন্য উৎসাহিত করেন।
দুই নেতা ইপ্রেস -এর ফ্ল্যান্ডার্স ফিল্ডস মিউজিয়াম এবং নতুন দিল্লির সেন্টার ফর আর্মড ফোর্সেস হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ-এর মধ্যে চলমান সহযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এই সহযোগিতা ভারত ও বেলজিয়ামের যৌথ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারে অবদান রাখছে।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তঃসীমান্ত সংগঠিত অপরাধ, সাইবার অপরাধ দমন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এবং বেলজিয়ামের ফেডারেল পুলিশের মধ্যে সমঝোতা পত্র স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বিষয়ক সহযোগিতার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই সমঝোতা স্মারকটি ২০১৫ সালের কাঠামোর আওতায় প্রতিষ্ঠিত সহযোগিতা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বেলজিয়াম ও ভারত প্যারিস চুক্তির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা একটি সফল কপ-৩১ সম্মেলনে সমর্থন জানায়। যা চুক্তির বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেবে এবং ক্ষেত্র পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে। তাঁরা জলবায়ু সহনশীলতা,সুস্থায়ী উন্নয়ন এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে মহাসাগর ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি পুনরায় স্বীকার করেন।
উভয় পক্ষই স্টার্টআপ ইনকিউবেশন বা স্টার্টআপ সহায়তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়। এ লক্ষ্যে, তাঁরা মেইটি স্টার্টআপ হাব ও হাব ব্রাসেলস-এর পাশাপাশি অন্যান্য স্টার্টআপ হাব ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হন। এর মাধ্যমে উদ্ভাবন নির্ভর কার্যক্রমকে সহায়তা প্রদান এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে স্টার্টআপ পরিমন্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।
উভয় নেতাই দক্ষ ভিসা পরিষেবার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সংযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও দ্রুত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি পাওয়ায়, উভয় দেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোর ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। এই বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে, উভয় নেতাই ভারতে বেলজিয়ামের ভিসা প্রদান পরিষেবা জোরদার করার চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করেন। ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে, উভয় পক্ষই রাষ্ট্রসংঘ সনদের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে একটি সামগ্রিক, ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ার ক্ষেত্রে, তাঁরা এই অঞ্চলে উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠা সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনা ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া, তাঁরা সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং নিরাপদ ও অবাধ নৌ-চলাচল বজায় রাখার গুরুত্বের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে ভারত-বেলজিয়াম অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও বৈচিত্র্যময় করার বিষয়ে তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা একমত হন যে, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, লিঙ্গ সমতা এবং নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের আলোকেই ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব পরিচালিত হতে থাকবে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তাঁরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভারত-বেলজিয়াম অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জনগণ ও বিশ্বের জন্য সুনির্দিষ্ট সুফল বয়ে আনবে এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভারত ও ইউরোপের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে অবদান রাখবে।
ভারত-বেলজিয়াম অংশীদারিত্বের গভীরতা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ভারত-ইউরোপ ও ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার বিষয় তাঁদের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ওয়েভার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পছন্দমতো সময়ে বেলজিয়াম সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ছেন।
SC/AB/SG