Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারত-ইতালি যৌথ ঘোষণা

ভারত-ইতালি যৌথ ঘোষণা


নতুন দিল্লি ২০  মে ২০২৬

 

ইতালীর মন্ত্রী পরিষদের সভাপতি জর্জিয়া মেলোনির আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯-২০ মে ২০২৬ তারিখে ইতালি সফর করেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইতালি সফর এবং ২০২৩ সালে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মেলোনির ভারত সফরের পর এই সফরটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করে। দুই নেতা ভারত-ইতালি সম্পর্ককে একটি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন।

রাজনৈতিক আলোচনা:

দুই প্রধানমন্ত্রী উচ্চ-পর্যায়ের আদান-প্রদানে শক্তিশালী  গতিকে স্বাগত জানান এবং বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নেতাদের বার্ষিক বৈঠক, নিয়মিত মন্ত্রী ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনে সম্মত হন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের বৈঠকে দুই নেতার গৃহীত ‘যৌথ কৌশলগত কর্ম পরিকল্পনা ২০২৫-২০২৯’-এর বিভিন্ন স্তম্ভ জুড়ে অর্জিত সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন তাঁরা। উভয় নেতা ভারত-ইতালি যৌথ কৌশলগত কর্ম পরিকল্পনা ২০২৫-২৯ পর্যালোচনা করতে এবং ভারত-ইতালি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কৌশলগত নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিদেশ মন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ

উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। গত বছর থেকে তিনটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য মঞ্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের দ্রুত ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার সফল সমাপ্তি থেকে উদ্ভূত সুযোগ গুলোর ওপর ভিত্তি করে, তাঁরা ২০২৯ সালের মধ্যে উভয় দিকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সম্প্রসারণের যৌথ উদ্দেশ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলিতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির জন্য নিজ নিজ শিল্পগুলোকে শিল্প ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছেন। তাঁরা বিশেষ করে বস্ত্র, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, মোটরগাড়ি, জ্বালানি, পর্যটন, ঔষধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল, ইস্পাত, বন্দর এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বৃহত্তর বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা উভয় দেশে বর্তমান নীতিগত পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো ব্যবহারের জন্য শিল্পগুলোকে উৎসাহিত করেছেন। এর লক্ষ্য হলো বাণিজ্য সংযোগ এবং উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি করা।

উভয় প্রধানমন্ত্রী স্টক এক্সচেঞ্জ, বিনিয়োগ তহবিল, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।

তাঁরা সরবরাহ শৃঙ্খলের গভীরতর একীকরণকে উৎসাহিত করার জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগসহ শিল্প অংশীদারিত্ব সহজতর করতে সম্মত হয়েছেন। উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোতে আগামী দিনে নতুন ক্ষেত্রভিত্তিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন।

দুই প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা টেকসই ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছেন। তাঁরা ইলেকট্রনিক বর্জ্য এবং খনির বর্জ্যসহ অপ্রচলিত উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ পুনরুদ্ধারে যৌথ প্রচেষ্টা প্রসারের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ মন্ত্রক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কৃষি এবং কৃষি গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

যোগাযোগ ক্ষমতা

দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি)-এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সংযোগ এবং সমৃদ্ধিকে নতুন রূপদান ও প্রসারে এর রূপান্তরমূলক সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে এই প্রকল্পে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রকল্পটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার প্রশংসা করে, তাঁরা ২০২৬ সালে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রথম আইএমইসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর দেন।

তাঁরা সামুদ্রিক পরিবহন ও বন্দর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানান এবং যত দ্রুত সম্ভব সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের জন্য নিজ নিজ মন্ত্রক ও বিভাগকে একটি যৌথ কর্মীগোষ্ঠী গঠনের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্টার্ট-আপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-

দুই প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে উদ্ভাবন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি হলো ভারত-ইতালি অংশীদারিত্বের মূল চালিকাশক্তি।

তাঁরা ভারতে অবস্থিত একটি উদ্ভাবন কেন্দ্র ‘ইনোভিট ইন্ডিয়া’ তৈরির ঘোষণা করেন। এর লক্ষ্য হলো নিজ নিজ উদ্ভাবন পরিমণ্ডলের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা, স্টার্ট-আপ অ্যাক্সিলারেশন প্রোগ্রাম, বাজার প্রবেশাধিকার ও ব্যবসায়িক সংযোগ, যৌথ গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা এবং ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা, সেমিকন্ডাক্টর, লজিস্টিকস ও সরবরাহ শৃঙ্খল, কৃষি প্রযুক্তি, শক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে মেধা স্থানান্তরে সহায়তা করা। উভয় নেতা ২০২৫ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারতীয় ও ইতালীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির মধ্যে প্রথম বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানান। এই বছরের শেষের দিকে ইতালিতে এর পরবর্তী সংস্করণ আয়োজনের জন্য ইতালি আগ্রহী বলেও জানানো হয়।

উভয় নেতা একটি উন্মুক্ত, অবাধ, নিরাপদ, স্থিতিশীল, সহজলভ্য এবং শান্তিপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরিবেশের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। এটি উদ্ভাবন এবং উন্নয়নের সহায়ক। প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সম্মেলনে ইতালির গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান। উভয় নেতা একটি মানবকেন্দ্রিক, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা তৃতীয় দেশসহ এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হন।

দুই প্রধানমন্ত্রী সুপারকম্পিউটিং ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

২০২৫-২০২৭ সালের বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার নির্বাহী কর্মসূচির উপর ভিত্তি করে, তাঁরা কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং টেকসই নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং গবেষকদের গতিশীলতা সহজতর করার বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। তাঁরা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকের চলমান বাস্তবায়ন এবং গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য যৌথভাবে প্রস্তাব আহ্বানের সূচনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন।

দুই প্রধানমন্ত্রী ট্রাইস্টর আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান কেন্দ্র (আইসিটিপি) এবং ভারতীয় শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন। ভারতীয় গবেষকদের জন্য ইলেট্রার সিনক্রোট্রন বিকিরণ সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ সংক্রান্ত কর্মসূচির সমর্থনে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইতালির ট্রাইস্টর এলেট্রা সিনক্রোট্রন কেন্দ্রের মধ্যে একটি উদ্দেশ্য পত্র স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মহাকাশ:

ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার মধ্যে চলতি সহযোগিতার প্রশংসা করার পাশাপাশি, দুই নেতা নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ভূ-পর্যবেক্ষণ, হেলিওফিজিক্স এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে এবং মহাকাশে প্রবেশাধিকার ও মহাকাশ পরিকাঠামোর সুরক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা অন্বেষণ করতে সম্মত হয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ মহাকাশ শিল্প প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক পারস্পরিক সফরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তৃতীয় দেশগুলোতেও বিশেষজ্ঞ বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

প্রতিরক্ষা

উভয় প্রধানমন্ত্রীই মন্ত্রী পর্যায়ের মত বিনিময়, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক, বন্দর পরিদর্শনসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীরতর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একটি যৌথ ঘোষণাপত্র ও একটি প্রতিরক্ষা শিল্প রোডম্যাপ গৃহীত হওয়াকে স্বাগত জানান। হেলিকপ্টার, নৌ প্ল্যাটফর্ম, সামুদ্রিক অস্ত্রশস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধসহ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সহ-উৎপাদন এবং সহ-উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করবে। তাঁরা শিল্পক্ষেত্রে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষার গুরুত্বও স্বীকার করেছেন।

উভয় পক্ষ যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি এবং সামরিক সহযোগিতা গোষ্ঠীর কাজের পরিপূরক হিসেবে একটি বার্ষিক উচ্চ-স্তরের সামরিক কাঠামোগত আলোচনার বিষয়টি যাচাই করতে এবং যৌথ মহড়া ও আন্তঃবাহিনী কোর্সকে উৎসাহিত করতে সম্মত হয়েছে।

উভয় নেতা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, সমন্বয় এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে তথ্য ও সর্বোত্তম অনুশীলনের বিনিময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।

নিরাপত্তা

উভয় নেতা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ সহ সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থার সকল রূপ ও প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। উভয় নেতা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অধীনে তালিকাভুক্তরাও রয়েছে। তাঁরা সব দেশকে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) নির্দেশিকা অনুসারে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও পরিকাঠামো নির্মূল, জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উভয় নেতা রাষ্ট্রসংঘ, এফএটিএফ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক মঞ্চে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয় নেতা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধের জন্য ভারত ও ইতালির মধ্যে স্থায়ী টাস্ক ফোর্সের প্রথম বৈঠক এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যৌথ কর্মী গোষ্ঠীর আসন্ন বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন।

উভয় নেতা ইতালির গার্ডিয়া ডি ফিনাঞ্জা এবং ভারতের ডিরেক্টরেট অফ এনফোর্সমেন্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং গোপনীয় তথ্য বিনিময় ও পারস্পরিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি এবং পুলিশি সহযোগিতা জোরদার করা সংক্রান্ত চুক্তির দ্রুত সমাপ্তির প্রত্যাশা করেছেন। তাঁরা প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি সহ অন্যান্য চুক্তি নিয়ে চলতি আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন।

অভিবাসন ও গতিশীলতা

দুই নেতা শ্রম বাজারের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ছাত্র, গবেষক এবং দক্ষ কর্মীদের, বিশেষ করে স্টেম ক্ষেত্রে গতিশীলতা বাড়াতে এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছেন। এর মধ্যে ভারত থেকে ইতালিতে নার্সদের যাতায়াত সহজ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা সামাজিক সুরক্ষা চুক্তি (এসএসএ) নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে চলতি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তাঁরা ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিভা বাড়ানোর লক্ষ্যে “আইসিআই – ইতালি ভারতকে বলে: একটি বিশ্ববিদ্যালয়-উদ্যোগ প্রতিভা সেতু” চালুর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

তাঁরা নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য অনিয়মিত অভিবাসন, শ্রম শোষণ এবং মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন।

সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময়

দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে সংস্কৃতির ওপর আলোকপাত করেন এবং লোথালে জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নে ইতালির অংশগ্রহণ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানান। তাঁরা ২০২৬ সালের ভেনিস আর্ট বিয়েনালে ভারতীয় জাতীয় প্যাভিলিয়নের স্বীকৃতি দেন। তাঁরা ২০২৭ সালকে “ইতালি ও ভারতের মধ্যে সংস্কৃতি ও পর্যটন বর্ষ” হিসেবে উদযাপনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। দুই দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে ইতালি ও ভারতের মধ্যকার প্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়ে একটি বড় প্রদর্শনীর পথ প্রশস্ত করবে এটি।

দুই নেতা প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ এবং সৃজনশীল শিল্পের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে একটি ইতালি-ভারত সাংস্কৃতিক মঞ্চ আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করেন। দুই নেতা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভারতীয় ও ইতালীয় স্থানগুলোর মধ্যে যুগলবন্দী কর্মসূচি চালুর প্রশংসা করেন। এর লক্ষ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদার করা।

দুই নেতা তাদের শিল্পের শক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এবং দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রযোজনা চুক্তি দ্বারা প্রদত্ত আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করে দুই দেশের মধ্যে চলচ্চিত্র ও দৃশ্য-শ্রাব্য সহযোগিতা আরও উন্নত করতে সম্মত হন।

দুই প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য ভারত-ইতালীয় রোডম্যাপ গৃহীত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের নতুন শিক্ষা নীতির আওতায় ইতালীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতে ক্যাম্পাস খোলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভারত-ইইউ সম্পর্ক:

নেতৃবৃন্দ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে সম্মত হওয়া নতুন যৌথ ভারত-ইইউ ব্যাপক কৌশলগত এজেন্ডা এবং ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সমাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বৈচিত্র্যময় মূল্য শৃঙ্খল এবং নতুন বাজারের সুযোগের মাধ্যমে বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বাণিজ্য বাধা হ্রাস এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করে সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করবে।

তাঁরা বাণিজ্য, অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় সহযোগিতার একটি মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভারত-ইইউ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি পরিষদকে শক্তিশালী করার জন্য তাঁদের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নেতৃবৃন্দ ভারত-ইইউ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং গতিশীলতা সহযোগিতার অগ্রগতি, যার মধ্যে গতিশীলতার জন্য একটি ব্যাপক কাঠামোর উপর সমঝোতা স্মারক অন্তর্ভুক্ত, তার প্রশংসা করেছেন।

বহুপাক্ষিক সহযোগিতা:

উভয় নেতা রাষ্ট্রসংঘকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক এবং বর্তমান বাস্তবতার উপযোগী করে তোলার জন্য এর সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।

উভয় নেতা বহুপাক্ষিকতা রক্ষা করতে এবং একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে রাষ্ট্রসংঘ ও জি-২০ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে একযোগে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

আফ্রিকাকে উভয় দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, দুই প্রধানমন্ত্রী ভারতের ‘আফ্রিকায় উন্নয়ন অংশীদারিত্ব’ এবং ইতালির ‘মাতেই পরিকল্পনা’র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আফ্রিকান অংশীদারদের সঙ্গে ডিজিটাল গণপরিবহণ (ডিপিআই), কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সংযোগ ও পরিকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির মতো ক্ষেত্রে ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ ইউএনসিএলওএস সহ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উদ্যোগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা স্তম্ভে তাঁদের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন।

উভয় নেতা পশ্চিম এশিয়া/মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এই অঞ্চলে ও বিশ্বের অন্য অংশে এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ ৮ এপ্রিল ২০২৬-এ ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পশ্চিম এশিয়া/মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য উত্তেজনা হ্রাস, আলোচনা ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক প্রবাহ পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।

উভয় নেতা ইউক্রেনে চলতি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি অপরিসীম মানবিক দুর্ভোগ এবং বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক পরিণতি ঘটিয়ে চলেছে। তাঁরা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘ সনদের নীতি অনুসারে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে ইউক্রেনে একটি পূর্ণাঙ্গ, ন্যায়সঙ্গত এবং স্থায়ী শান্তি অর্জনের প্রচেষ্টায় সমর্থন অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

উপসংহার:

ভারত-ইতালি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের চিত্তাকর্ষক বৃদ্ধি ও গভীরতা লক্ষ্য করে, দুই নেতা সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে ঘনিষ্ঠ উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতালীর সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

SC/ PM /CS