পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
এল্লারিগু নমস্কারা (সবাইকে নমস্কার)!
জয় শ্রী কৃষ্ণ!
জয় শ্রী কৃষ্ণ!
কিছু শিশু এখানে ছবি এনেছে, আমি বক্তব্য শুরু করার আগে, দয়া করে এসপিজি এবং স্থানীয় পুলিশকে সেগুলি সংগ্রহ করতে সাহায্য করুন। তোমরা যদি ছবিগুলির পেছনে তোমাদের ঠিকানা লিখে দাও, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের প্রত্যেককে একটি করে ধন্যবাদ পত্র পাঠাব। যাদের কাছে কিছু আছে, দয়া করে এসপিজি এবং স্থানীয় পুলিশকে তা দাও, তাঁরা সেগুলি সংগ্রহ করবেন। আর তারপর তোমরা শান্তিতে নিজেদের জায়গায় বসতে পারো। এই শিশুরা এত কঠোর পরিশ্রম করেছে, যদি কোনও ভাবে আমি তাদের প্রতি অন্যায় করি, তবে তা আমায় কষ্ট দেয়।
জয় শ্রী কৃষ্ণ!
ভগবান কৃষ্ণের ঐশ্বরিক দর্শনের সন্তুষ্টি, ভগবদগীতার মন্ত্রগুলির আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং এত শ্রদ্ধেয় সাধু ও গুরুদের উপস্থিতি আমার জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। আমার কাছে, এটি অগণিত পুণ্য অর্জনের মতো। আর আমার প্রতি আপনাদের অনেকের যে শ্রদ্ধা, আমার প্রতি যে অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, তাতে আমি যেন এত আশীর্বাদ পাই যে আমার সম্পর্কে যা যা বলা হচ্ছে আমি যেন তার যোগ্য হয়ে উঠতে পারি, আরও কাজ করতে পারি এবং আমার উপর আপনাদের যে প্রত্যাশা রয়েছে তা পূরণ করতে পারি।
ভাই ও বোনেরা,
মাত্র তিন দিন আগে, আমি গীতার ভূমি কুরুক্ষেত্রে ছিলাম। এখন, ভগবান কৃষ্ণের আশীর্বাদপ্রাপ্ত এবং জগদ্গুরু শ্রী মাধ্বাচার্যের যশে প্রসিদ্ধ এই ভূমিতে সফর করা আমার জন্য এক অপরিসীম তৃপ্তির মুহূর্ত। এই উপলক্ষে, যখন এক লক্ষ মানুষ একসঙ্গে ভগবদগীতার শ্লোক পাঠ করছিলেন, তখন সারা বিশ্বের মানুষ ভারতের হাজার হাজার বছরের দেবত্ব প্রত্যক্ষ করছিলেন। শ্রী শ্রী সুগুনেন্দ্র তীর্থ স্বামীজি, শ্রী শ্রী সুশীন্দ্র তীর্থ স্বামীজি, কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মীরা, রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা, সাংসদ, বিধায়করা, উদুপির আটটি মঠের সমস্ত অনুসারী এবং উপস্থিত অন্যান্য সাধুগণ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ!
কর্ণাটকের এই ভূমিতে, এখানকার প্রেমময় মানুষের মধ্যে আসা আমার জন্য সর্বদা একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। আর উদুপির ভূমিতে এলে সর্বদাই দুরন্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করি । আমার জন্ম গুজরাটে, আর গুজরাট ও উদুপির মধ্যে একটি গভীর এবং বিশেষ বন্ধন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এখানে স্থাপিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্তিটি প্রথম দ্বারকায় মা রুক্মিণী দ্বারা পূজা করা হয়েছিল। পরে, জগদ্গুরু শ্রী মাধবাচার্য এখানে এই মূর্তিটি স্থাপন করেছিলেন। আর আপনারা জানেন, গত বছরই আমি সমুদ্রের তলদেশে শ্রী দ্বারকা দর্শন করতে গিয়েছিলাম এবং সেখান থেকেও আশীর্বাদ নিয়ে এসেছিলাম। এই মূর্তিটি দেখার পর আমার কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন। এই দর্শন আমাকে গভীর আধ্যাত্মিক আনন্দ দিয়েছে।
বন্ধুগণ,
উদুপি সফর আমার জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ। উদুপি জনসংঘ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সুশাসনের মডেলের জন্য কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ১৯৬৮ সালে, উদুপির জনগণ আমাদের জনসংঘের ভি.এস. আচার্যকে এখানে পৌর পরিষদে নির্বাচিত করেছিলেন। এবং এর মাধ্যমে, উদুপি একটি নতুন শাসন মডেলের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আজ আমরা জাতীয়ভাবে যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেখছি তা পাঁচ দশক আগে উদুপিতে গৃহীত হয়েছিল। জল সরবরাহ এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন মডেল প্রদানের জন্য, উদুপি ১৯৭০-এর দশকে এই কর্মসূচিগুলি শুরু করেছিল। আজ, এই অভিযান দেশের জাতীয় উন্নয়ন এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হিসাবে আমাদের পথ দেখাচ্ছে।
আমাদের রাম চরিত মানসে লেখা আছে – “কলিজুগ কেওয়ল হরি গুণ গাহা। গাওয়ত নর পাওয়হিঁ ভওয় থাহা।” অর্থাৎ, কলিযুগে, একমাত্র ভগবদ্ নাম জপ এবং দিব্য খেলার কীর্তনই হল পরম উপায়। সেগুলি গাওয়া এবং জপ করা অস্তিত্বের সমুদ্র থেকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে। আমাদের সমাজে শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে গীতার মন্ত্র এবং শ্লোক পাঠ করা হয়ে আসছে, কিন্তু যখন লক্ষ লক্ষ কণ্ঠ এই শ্লোকগুলি একসঙ্গে পাঠ করে, যখন এত মানুষ গীতার মতো একটি পবিত্র গ্রন্থ পাঠ করে, যখন এই ধরণের দিব্য বাক্যগুলি এক জায়গায় একসঙ্গে প্রতিধ্বনিত হয়, তখন একটি শক্তি নির্গত হয় যা আমাদের মন এবং আমাদের মস্তিষ্ককে একটি নতুন স্পন্দন, একটি নতুন শক্তি জোগায়। এই শক্তি আধ্যাত্মিকতার শক্তি, এবং এই শক্তি সামাজিক ঐক্যের শক্তি। সেজন্যেই, আজকের ‘লক্ষ কণ্ঠ গীতা পাঠ’ বিশাল শক্তির অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ গড়ে তুলেছে। এটি বিশ্বকে সমষ্টি চেতনার শক্তিও প্রদর্শন করছে।
এখানে আসার তিন দিন আগে আমি অযোধ্যায়ও গিয়েছিলাম। ২৫শে নভেম্বর, বিবাহ পঞ্চমীর পবিত্র দিনে, অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরে ধর্মধ্বজা উত্তোলন করা হয়েছিল। অযোধ্যা থেকে উদুপি পর্যন্ত অগণিত রাম ভক্ত এই সবচেয়ে ঐশ্বরিক এবং জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সমগ্র দেশ রাম মন্দির আন্দোলনে উদুপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জানে। কয়েক দশক আগে সমগ্র রাম মন্দির আন্দোলনে শ্রদ্ধেয় প্রয়াত বিশ্বেশ তীর্থ স্বামীজি যেভাবে দিকনির্দেশ করেছিলেন, ধ্বজারোহণ সমারোহ সেই অবদানের সিদ্ধিলাভের উদযাপনে পরিণত হয়েছে । রাম মন্দির নির্মাণ অন্য একটি কারণেও উদুপির জন্য বিশেষ। নতুন মন্দিরে জগদ্গুরু মাধ্বাচার্যজীর নামে একটি বিশাল ফটকও নির্মিত হয়েছে। ভগবান রামের একনিষ্ঠ ভক্ত জগদ্গুরু মাধ্বাচার্যজী লিখেছিলেন, “রামায় শাশ্বত সুবিস্তৃত ষড়গুণায়, সর্বেশ্বরায় বল-বীর্য মহার্ণবায়,” যার অর্থ, “ছয়টি ঐশ্বরিক গুণে বিভূষিত ভগবান শ্রী রাম সকলের প্রভু এবং অপরিসীম শক্তি ও সাহসের সমুদ্র।” আর সেজন্যেই রাম মন্দির পরিসরের একটি দ্বার তাঁর নামে নামকরণ করা উদুপি তথা কর্ণাটক এবং সমগ্র দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
বন্ধুগণ,
জগদ্গুরু শ্রী মধ্বাচার্য ভারতের দ্বৈত দর্শনের প্রবর্তক এবং বেদান্তের আলোকবর্তিকা। উদুপিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আটটি মঠের ব্যবস্থাপনা, নতুন নতুন সংস্থা এবং নতুন ঐতিহ্য গড়ে তোলার একটি প্রত্যক্ষ উদাহরণ। এখানে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি, বেদান্তের জ্ঞান এবং হাজার হাজার মানুষকে অন্ন সেবার সংকল্প রয়েছে। এক অর্থে, এই স্থানটি জ্ঞান, ভক্তি এবং সেবার একটি সঙ্গমতীর্থ।
বন্ধুগণ,
যখন জগদ্গুরু মধ্বাচার্যের জন্ম হয়েছিল, তখন ভারত অসংখ্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। সেই সময়ে, তিনি এমন একটি ভক্তির পথ দেখিয়েছিলেন যা সমাজের প্রতিটি অংশ এবং প্রত্যেক ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। আর এই দিকনির্দেশের ফলে কয়েক শতাব্দী পর, আজও, তাঁর প্রতিষ্ঠিত মঠগুলি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের সেবা করে চলেছে। তাঁর অনুপ্রেরণা দ্বৈত পরম্পরায় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জন্ম দিয়েছে যারা সর্বদা ধর্ম, সেবা এবং সামাজিক গঠনের পক্ষে লড়াই করেছেন। আর জনসেবার এই চিরন্তন ঐতিহ্যই হল উদুপির সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য।
বন্ধুগণ,
জগদ্গুরু মধ্বাচার্যের উত্তরাধিকারই হরিদাস ঐতিহ্যকে উজ্জীবিত করেছিল। পুরন্দর দাস এবং কনক দাসের মতো মহাপুরুষরা ভক্তিকে সরল, মধুর এবং সুগম কন্নড় ভাষায় জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁদের রচনাগুলি প্রত্যেক হৃদয়ে, এমনকি দরিদ্রতম ব্যক্তির মনকেও প্রভাবিত করেছিল আর তাদের ধর্ম এবং সনাতন ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেছিল। এই রচনাগুলি আজকের প্রজন্মের কাছেও প্রাসঙ্গিক। আজও, আমাদের যুবসমাজ সোশ্যাল মিডিয়ার রিলগুলিতে শ্রী পুরন্দর দাস রচিত চন্দ্রচূড় শিব শঙ্কর পার্বতী শুনে এক ভিন্ন মানসিক অবস্থায় পৌঁছে যায়। আজও, যখন উডুপিতে আমার মতো কোনও ভক্ত একটি ছোট জানালা দিয়ে ভগবান কৃষ্ণের দর্শন করেন, তখন তাঁরা কনক দাসজির ভক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পান। আর আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান; এর আগেও কয়েকবার আমার এই সৌভাগ্য হয়েছে। কনক দাসকে প্রণাম জানানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
বন্ধুগণ,
ভগবান কৃষ্ণের উপদেশ এবং তাঁর শিক্ষা প্রতিটি যুগে ব্যবহারিক। গীতার বাণী কেবল ব্যক্তিকেই নয়, জাতির নীতিকেও দিকনির্দেশনা দেয়। ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন: ‘সর্বভূতহিতে রতাঃ’। গীতায় বলা হয়েছে – ‘লোক সংগ্রহম এওয়াপি, সম্ পশ্যন্ কর্তুম অর্হসি! এই দুটি শ্লোকের অর্থ হল আমাদের জনকল্যাণের জন্য কাজ করা উচিত। তাঁর জীবন জুড়ে, জগদ্গুরু মধ্বাচার্যজি এই ভাবনাগুলি নিয়ে ভারতের ঐক্যকে শক্তিশালী করেছেন।
বন্ধুগণ,
আজ আমাদের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির পেছনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’- শ্লোকের অনুপ্রেরণা রয়েছে: ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের দরিদ্রদের সাহায্য করার মন্ত্র দেন এবং এই মন্ত্রটি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মতো প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের নারীর সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নের জ্ঞান শেখান এবং এই জ্ঞান দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ‘নারী শক্তি বন্দন’ আইন প্রণয়নের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সকলের কল্যাণ করার কথা শেখান এবং এটি আমাদের ‘টীকাকরণ মৈত্রী’, ‘সৌরশক্তি জোট’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির ভিত্তি হয়ে ওঠে।
বন্ধুগণ,
শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে গীতার বার্তা প্রদান করেছিলেন। এবং ভগবদগীতা আমাদের শিক্ষা দেয় যে শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যাচারীদের বিনাশ করা প্রয়োজন। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির মূল কথা। আমরা যেমন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বলি, তেমনি আমরা ‘ধর্মো রক্ষাতি রক্ষিতাঃ’ মন্ত্রটিও পুনরাবৃত্তি করি। লাল কেল্লা থেকে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের করুণার বার্তা প্রচার করি, আর একই দুর্গ থেকে আমরা মিশন সুদর্শন চক্রের ঘোষণা করি। ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অর্থ হল দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, শিল্প ও সরকারি ক্ষেত্রগুলির চারপাশে নিরাপত্তার প্রাচীর তৈরি করা, যাতে শত্রুরা ভেদ করতে না পারে। যদি শত্রু সাহস করে, তাহলে আমাদের সুদর্শন চক্র তাদের ধ্বংস করবে।
বন্ধুগণ,
‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় দেশ এই সংকল্প প্রত্যক্ষ করেছে। পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলায় অনেক দেশবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। আমার কর্ণাটকের ভাই ও বোনেরা এই ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছিলেন। কিন্তু অতীতে, যখন এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা হত, তখন সরকারগুলি চুপ করে বসে থাকত। কিন্তু এটি একটি নতুন ভারত, যে দেশ কারও কাছে মাথা নত করে না বা তার নাগরিকদের রক্ষা করার দায়িত্ব এড়ায় না। আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে জানি, এবং আমরা এটিও জানি কিভাবে তা রক্ষা করতে হয়।
বন্ধুগণ,
ভগবদ্গীতা আমাদের কর্তব্য এবং জীবনের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমি আজ আপনাদের সকলকে কিছু সংকল্প গ্রহণের জন্য অনুরোধ করব। এই সংকল্পগুলি, নয়টি সংকল্পের মতো, আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। যখন সাধু সম্প্রদায় এই সংকল্পগুলিকে আশীর্বাদ করবে, তখন কেউ এগুলিকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিতে পারবে না।
বন্ধুগণ,
আমাদের প্রথম সংকল্প হওয়া উচিত জল সংরক্ষণ, জল বাঁচানো এবং নদীগুলিকে বাঁচানো। আমাদের দ্বিতীয় সংকল্প হওয়া উচিত গাছ লাগানো। “মায়ের নামে একটি গাছ” অভিযান সারা দেশে গতি পাচ্ছে। যদি সমস্ত মঠ এই অভিযানের সঙ্গে যোগ দেয়, তবে এর প্রভাব আরও বেশি হবে। তৃতীয় সংকল্প হওয়া উচিত দেশের অন্তত একজন দরিদ্র ব্যক্তির জীবন উন্নত করার জন্য প্রচেষ্টা করা। আমি খুব বেশি কিছু বলছি না। চতুর্থ সংকল্প হওয়া উচিত স্বদেশীর ধারণা। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে, আসুন আমরা সকলেই স্বদেশী পণ্যকে আপন করে নিই। আজ, ভারত আত্মনির্ভর ভারত এবং স্বদেশীর মন্ত্রে এগিয়ে চলেছে। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের শিল্প, আমাদের প্রযুক্তি, সবকিছুই নিজের পায়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। অতএব, আমাদের জোরে জোরে ঘোষণা করতে হবে: ভোকাল ফর লোকাল, স্থানীয় পণ্যের জন্য আওয়াজ তোল, ভোকাল ফর লোকাল, ভোকাল ফর লোকাল।
বন্ধুগণ,
আমাদের পঞ্চম সংকল্প হিসেবে, আমাদের প্রাকৃতিক কৃষিকে উৎসাহিত করতে হবে। আমাদের ষষ্ঠ সংকল্প হওয়া উচিত একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করা, বাজরা ও অন্যান্য মোটাদানার শস্যগ্রহণ করা এবং আমাদের খাবারে তেলের পরিমাণ কমানো। আমাদের সপ্তম সংকল্প হওয়া উচিত যোগব্যায়াম শুরু করা এবং এটিকে আমাদের জীবনের একটি অংশ করে তোলা। অষ্টম সংকল্প: পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণে সহযোগিতা করা। আমাদের দেশের প্রাচীন জ্ঞানের বেশিরভাগই পাণ্ডুলিপিতে লুকিয়ে আছে। এই জ্ঞান সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’-এর কাজ করছে। আপনার সহযোগিতা এই অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
বন্ধুগণ,
আপনারা নবম সংকল্প নিন: দেশের অন্তত ২৫টি স্থান পরিদর্শন করা, যেগুলি আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। আমি আপনাকে কিছু পরামর্শ দিচ্ছি। ৩-৪ দিন আগে, কুরুক্ষেত্রে মহাভারত অভিজ্ঞতা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছিল। আমি আপনাদের সবাইকে এই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে এবং ভগবান কৃষ্ণের জীবন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অনুরোধ করছি। প্রতি বছর, কৃষ্ণ এবং মা রুক্মিণীর বিবাহের জন্য নিবেদিত মাধবপুর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে, অনেক মানুষ এই মেলায় আসেন। আপনারও অবশ্যই আগামী বছর এখানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
বন্ধুগণ,
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সমগ্র জীবন, গীতার প্রতিটি অধ্যায় কর্ম, কর্তব্য এবং কল্যাণের বার্তা বহন করে। আমাদের ভারতীয়দের জন্য, ২০৪৭ সাল শুধুই অমৃত কাল নয়, বরং একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার কর্তব্যের সময়ও। প্রত্যেক নাগরিক, প্রত্যেক ভারতীয়ের একটি দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটি কর্তব্য রয়েছে। এবং কর্ণাটকের পরিশ্রমী জনগণ এই কর্তব্যগুলি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আমাদের প্রতিটি প্রচেষ্টা দেশের জন্য হওয়া উচিত। এই কর্তব্যের চেতনা অনুসরণ করে, একটি উন্নত কর্ণাটক, একটি উন্নত ভারতের স্বপ্নও বাস্তবায়িত হবে। এই আশা নিয়ে, উদুপির ভূমি থেকে নির্গত এই শক্তি আমাদের একটি উন্নত ভারত অর্জনের সংকল্পে পরিচালিত করে চলুক। আবারও, এই পবিত্র অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে আমার শুভেচ্ছা জানাই। আর সকলকে জানাই – জয় শ্রী কৃষ্ণ! জয় শ্রী কৃষ্ণ! জয় শ্রী কৃষ্ণ!
*
SC/SB/DM …
Addressing the Laksha Kantha Gita Parayana programme at Sri Krishna Matha in Udupi. Deeply honoured for the opportunity to be in the presence of the revered sages.
— Narendra Modi (@narendramodi) November 28, 2025
https://t.co/4E53zyQF7B
कलियुग में केवल भगवद् नाम और लीला का कीर्तन ही परम साधन है।
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
उसके गायन कीर्तन से भवसागर से मुक्ति हो जाती है: PM @narendramodi pic.twitter.com/P0Wk11AZVk
The words of the Gita not only guide individuals but also shape the direction of the nation's policies: PM @narendramodi pic.twitter.com/FG3ZKkFOdl
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
The Bhagavad Gita teaches that upholding peace and truth may require confronting and ending the forces of injustice. This principle lies at the heart of the nation's security approach. pic.twitter.com/FuYHHC4Cyl
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
Let us take nine resolves... pic.twitter.com/v26kVZi00G
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025