Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

চেন্নাইয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন প্রধানমন্ত্রী


নতুন দিল্লি, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ১১ অক্টোবর তামিলনাড়ুর চেন্নাই সফর করবেন। এই সফরকালে তিনি ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন, উদ্বোধন করবেন এবং কয়েকটি প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। মেট্রো রেল, জাতীয় সড়ক, রেল, বন্দর, পেট্রোলিয়াম, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চেন্নাই মেট্রো রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের পুন্নামাল্লি-ভাদাপালানি অংশের উদ্বোধন করবেন এবং আইআইটি মাদ্রাজের সুধা গোপালকৃষ্ণন ব্রেন সেন্টার জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এ ছাড়াও, তিনি চেন্নাইয়ের জলকান্তেশ্বর মন্দিরে দর্শন ও পুজো দেবেন এবং জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সমবেত জনসাধারণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী চেন্নাই মেট্রোয় পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুন্নামাল্লি বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত যাত্রা করবেন এবং ফিরে আসবেন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি চেন্নাইয়ের জলকান্তেশ্বর মন্দিরে দর্শন ও পুজো দেবেন। এরপর তিনি আইআইটি মাদ্রাজের ব্রেন সেন্টার পরিদর্শন করবেন।

দুপুর দেড়টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন এবং কয়েকটি প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সমবেত জনসাধারণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। বিকেল ৩টে নাগাদ তিনি চেন্নাইয়ে জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনে অংশগ্রহণ করবেন এবং ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪,৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চেন্নাই মেট্রো রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের পুন্নামাল্লি-ভাদাপালানি অংশের উদ্বোধন করবেন। এই করিডরে ৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ ডাবল-ডেকার কাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি, এতে এমন উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা রয়েছে, যা চালকবিহীন ট্রেন চলাচলে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের ফলে যাত্রীদের দৈনিক যাতায়াতের সময় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চেন্নাইয়ের দ্রুত বিকাশশীল পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহরগুলির সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলের যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।

প্রধানমন্ত্রী তামিলনাড়ুতে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ও নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পগুলি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যাতায়াতের সময় হ্রাস, যানজট নিরসন এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সড়ক-৭৪৪-এর ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট ভাদুগাপট্টি-থেরকুভেঙ্গানাল্লুর অংশের উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পের ফলে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান, শিল্পকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি, যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ সহজতর হবে। এ ছাড়া, তিনি জাতীয় সড়ক-৭৪৪এ-এর ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট মাদুরাই রিং রোড অংশের উদ্বোধন করবেন। এর ফলে মাদুরাই শহরের চারপাশে যান চলাচল আরও মসৃণ হবে এবং শহরের অভ্যন্তরীণ যানজট হ্রাস পাবে।

প্রধানমন্ত্রী নাগাপট্টিনম-থাঞ্জাভুর অংশে জাতীয় সড়ক-৮৩-এর অন্তর্গত চার লেনবিশিষ্ট তিরুভারুর বাইপাসের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিরুভারুর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং শহরের বাইরে বিকল্প পথ তৈরি হওয়ায় যান চলাচল সহজতর হবে।

প্রধানমন্ত্রী ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল পরিকাঠামো প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন এবং উদ্বোধন করবেন। তিনি কারাইকাল-পেরালাম রেলপথ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে রেল যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। এ ছাড়া, তিনি কোয়েম্বাটুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তিনটি রেল ফ্লাইওভার জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এই পরিকাঠামোগুলির ফলে ব্যস্ত রেলক্রসিংগুলিতে যানজট ও অপেক্ষার সময় কমবে এবং সড়ক নিরাপত্তা উন্নত হবে। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মিত পালানি, ভেলোর ক্যান্টনমেন্ট, আম্বাসমুদ্রম, পরমাক্কুড়ি ও নামাক্কাল – এই পাঁচটি অমৃত স্টেশনেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

তামিলনাড়ুর সামুদ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বন্দর-সম্পর্কিত প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন।

চেন্নাই বন্দরে চারটি পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলি হল পাকা পণ্য সংরক্ষণ চত্বর, আমদানি-রপ্তানি পণ্যের জন্য চারটি গুদাম, আধুনিকীকৃত ক্রুজ টার্মিনাল এবং নাবিকদের ক্লাব। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পণ্য সংরক্ষণ ও ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং গুদামের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ক্রুজ টার্মিনালের আধুনিকীকরণের ফলে একই সময়ে আরও বেশি যাত্রীর জাহাজে ওঠা ও নামার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, সফররত নাবিক ও সামুদ্রিক কর্মীদের জন্য আধুনিক কল্যাণমূলক, বিনোদনমূলক ও সহায়ক পরিষেবার সুযোগ তৈরি হবে।

ভি. ও. চিদম্বরনার বন্দরে আটটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পণ্য ও কনটেনার পরিবহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন সামুদ্রিক জ্বালানির ব্যবহারের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া, কামরাজর বন্দরে কয়লাবাহী জেটি-৩ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে, কনটেনার টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপের জন্য মূলধনী ড্রেজিংয়ের কাজের শিলান্যাস করবেন।

প্রধানমন্ত্রী চেন্নাই পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের (সিপিসিএল) মানালি শোধনাগারে গ্রুপ-২/৩ লুব অয়েল বেস স্টকস (এলওবিএস) প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। প্রায় ১,৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই প্রকল্পের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ২ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। ভারতে উন্নতমানের লুব্রিক্যান্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রুপ-২/৩ লুব অয়েল বেস স্টকস তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী আইআইটি মাদ্রাজের সুধা গোপালকৃষ্ণন ব্রেন সেন্টার (এসজিবিসি) জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। পাশাপাশি, ভ্রূণাবস্থা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মানবজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ১০০টিরও বেশি মানব মস্তিষ্কের কোষীয় স্তরের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র বা অ্যাটলাস তৈরির একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের সূচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী সি-স্ট্রোক নামে মানব মস্তিষ্কের ইস্কেমিক স্ট্রোক-সংক্রান্ত একটি বিশেষ অ্যাটলাসও প্রকাশ করবেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত একটি মস্তিষ্কের ১,০০০টিরও বেশি চিহ্নিত অণুবীক্ষণিক চিত্র নিয়ে তৈরি এই অ্যাটলাস বিশ্বজুড়ে গবেষকদের নতুন চিকিৎসাগত লক্ষ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রী চেন্নাইয়ে জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনেও অংশগ্রহণ করবেন। এই উপলক্ষে শিক্ষা ক্ষেত্রে পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির অবদান এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উৎকর্ষ, শৃঙ্খলা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও সামগ্রিক বিকাশে তার ভূমিকা তুলে ধরা হবে। বিদ্যালয়ের মূলমন্ত্র ‘সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে’ – অর্থাৎ, ‘যে বিদ্যা মুক্তি দেয়’ – এর আদর্শ অনুসারে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা সমাজের উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে পারেন। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে চরিত্র গঠন, জ্ঞানার্জন ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।

 

SC/PM/AS