পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
নতুন দিল্লির যশোভূমিতে আজ ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের দশম সংস্করণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। ৮ অক্টোবর বায়ুসেনা দিবস- একথাও স্মরণ করেন তিনি। দেশের আকাশসীমা রক্ষায় নিয়োজিত সাহসী বায়ুসেনা কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সমস্ত বীর যোদ্ধাকে আমি প্রণাম জানাই এবং বায়ুসেনা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই।”
এর পাশাপাশি, গতকালই সরকারপ্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছর পূর্ণ করার বিশেষ মাইলফলকের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসেবার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভারতের বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের দশম বর্ষপূর্তির পাশাপাশি দেশে জিএসএমএ-র বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়াকেও তিনি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। দেশ-বিদেশের টেলিকম অপারেটর, শিল্পক্ষেত্রের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং স্টার্টআপ প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিন সকালে প্রয়াত বিশিষ্ট অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুসংবাদেও গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলে দর্শকদের হৃদয় জয় করা এই প্রতিভাবান শিল্পীর অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।
প্রয়াত অভিনেতার গভীর দেশাত্মবোধের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। নানা পাটেকরকে স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তেরঙার সম্মান ও গৌরবের প্রতি তাঁর জীবন ছিল নিবেদিত। তাঁর তীক্ষ্ণ সংলাপ এবং শক্তিশালী নীরবতা সমাজের নানা অনাচার ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল।
ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২২ সালে এই একই মঞ্চ থেকে ৫জি পরিষেবার সূচনার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ২০২৩ সালে ৫জি-র দ্রুত সম্প্রসারণের যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৫জি পরিষেবা ৫ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি বেস স্টেশনে চালু রয়েছে এবং দেশের প্রতিটি জেলায় তা পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ২০২৪ সালের সংস্করণে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বিশ্বব্যাপী টেলিকম মান নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করতে অংশ নিয়েছিলেন। এর আগের বছরগুলিতে মূলত দেশীয় উদ্ভাবন ও উৎপাদনের উপরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দেশের টেলিকম ক্ষেত্রে সাফল্য এবং বৃহত্তর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্মেলনের এ বছরের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মূলভাবের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধিদের দেশের নিজেদের রূপান্তরের অভিজ্ঞতার দিকে তাকানোর আহ্বান জানান। সীমাহীন পরিসরে বিকাশ সম্ভব—ভারতের অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে দেশ এই সীমাহীন সম্প্রসারণের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই তিনি তুলে ধরবেন।
সংযোগ ব্যবস্থার মৌলিক উদ্দেশ্যকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে টেলিকম ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম, টাওয়ার এবং নেটওয়ার্কের গতির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও, গত এক দশকে দেশের মানুষের কাছে মোবাইল ফোনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
দেশের টেলিকম ব্যবস্থার দ্রুত বিকাশের পিছনের কারণগুলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিপুল ডেটা ব্যবহার, সাশ্রয়ী মূল্যের ডিভাইস এবং বিশাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তবে এই সাফল্যের পিছনে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’-র বিষয়টিও বোঝা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটি বুঝতে পারলেই দেশের অগ্রগতির মূল লক্ষ্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ডিজিটাল বিভাজন দূর করার প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করেন, এক দশক আগে আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচিতে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি টেলিকম ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার এবং পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়, যাতে দেশে মোবাইল ফোনের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।
প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগের ফলে কীভাবে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়েছে, তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মোবাইল ফোন ও ডেটার ব্যাপক প্রসারের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বজুড়ে অতিমারির সময় লকডাউনের মধ্যেও সরকারি দফতর, ব্যাঙ্ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাজকর্ম সচল রাখা সম্ভব হয়েছিল। প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুরাও এখন সহজেই মানসম্পন্ন ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
ডিজিটাল শিক্ষার এই প্রসারের পরিসর বোঝাতে জাতীয় দীক্ষা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অতিমারির সময় থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে ৫০০ কোটিরও বেশি শিক্ষণ-পর্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং শিক্ষার জন্য ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার কোটি মিনিট। প্রধানমন্ত্রী আরও ২৫ কোটি শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল ও অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার অঙ্গীকার করেন।
প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বৈচিত্র্যকে কীভাবে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মোবাইল সংযোগ ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ভাষাগত বাধা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ডিজিটাল সংযোগের আগে সাধারণ পরিষেবা পেতে মানুষকে প্রায়ই শহরে যেতে হত। ব্যাঙ্কিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য যাতায়াতে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হত। মোবাইল সংযোগ সেই বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ৫০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা অপচয় ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা অতীতে সরকারি সহায়তার সুফল থেকে বঞ্চিত হতেন, তাঁদের কাছেই এখন সেই অর্থ সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে।
প্রযুক্তির এই ক্ষমতায়নের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুধু কথোপকথনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর ফলে মানুষের যাতায়াত কমেছে, অপেক্ষার সময় কমেছে, খরচ কমেছে এবং সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য প্রযুক্তির এই সামগ্রিক পরিবর্তনকেই তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণ কীভাবে অর্থনীতিতে নতুন ক্ষেত্রের সৃষ্টি করেছে, সেই কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন, বিপুল পরিমাণ অপটিক্যাল ফাইবার সম্প্রসারণ এবং সাশ্রয়ী ডেটার ফলে অর্থনীতিতে একাধিক নতুন ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটেছে। এর ফলে প্রযুক্তি, বিনোদন এবং শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক নতুন উপভোক্তা ও নির্মাতা তৈরি হয়েছে।
ইন্টার্যাক্টিভ বিনোদন ক্ষেত্রের দ্রুত প্রসারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলির তরুণরা, সক্রিয়ভাবে গেমিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এই তরুণরা শুধু গেম খেলছেন না, প্রতিযোগিতামূলক ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়, কনটেন্ট নির্মাতা এবং নতুন উদ্যোগের উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন।
কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি কীভাবে সুযোগের পরিসর বাড়িয়েছে, সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুতগতির সংযোগ এবং সাশ্রয়ী ডেটার ফলে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এবং আঞ্চলিক ওটিটি পরিষেবা গ্রাম ও মফস্বল এলাকাতেও পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে ভাষার পুরনো বাধাগুলিও অনেকটাই দূর হয়েছে। তিনি জানান, কনটেন্ট নির্মাণ শিল্প ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার কোটি টাকার শিল্পে পরিণত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি করেছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। টেলিকম ও ডিজিটাল প্রযুক্তি যখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে, তখন মোবাইল ফোন এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় মানুষের আস্থার জন্য কী কী নিশ্চিত করা জরুরি, তাও স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। নাগরিককে জানতে হবে, ফোনের ওপারে আসলে কে রয়েছেন; কোনও বার্তা সত্যিই নির্ভরযোগ্য কি না, তা যাচাই করার সুযোগ থাকতে হবে। অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার সময়ও তাঁকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করতে হবে।
সীমান্তহীন ডিজিটাল হুমকির মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সাইবার জালিয়াতি ও ডিপফেক বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি সরকার, প্রযুক্তি সংস্থা, টেলিকম অপারেটর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রতারণামূলক বার্তা বা লেনদেন সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছনোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য সক্রিয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জিএসএমএ-কে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী দিনের কৌশলগত পরিকল্পনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বর্তমান দশক শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলনে যে আলোচনা ও পরিকল্পনা হবে, তা ভবিষ্যতে ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের মোবাইল বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এতদিন প্রযুক্তির মূলত ব্যবহারকারী ছিল, এখন তা প্রযুক্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রেও সক্ষম হয়ে উঠেছে। পণ্য নকশা, মূল প্রযুক্তি এবং মেধাস্বত্বের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে দেশ। শিল্পক্ষেত্রের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার কয়েক দশক পুরনো আইনগুলির আধুনিকীকরণ করছে, বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে এবং টেলিযোগাযোগ আইন ও গতিশক্তি পোর্টালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক উদ্যোগ কার্যকর করছে।
গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই পাঁচটি কেন্দ্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের পরবর্তী পর্যায়ে সম্পূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে দেশীয় করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভাষণের শেষে প্রযুক্তিকে শুধু প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসকে এমন এক মঞ্চে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি, যেখানে মানবকল্যাণে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গবেষণা এবং অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটবে এবং বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নে তা সহায়ক হবে। শিল্প ও ভাবনার ক্ষেত্রে এই মঞ্চকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান মিলনস্থলে পরিণত করতে অংশগ্রহণকারীরা নিরলসভাবে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
SC / AC /AG
Addressing the India Mobile Congress. It is encouraging to see India's telecom sector steadily moving towards greater self-reliance. https://t.co/tIuohkURIE
— Narendra Modi (@narendramodi) October 8, 2026
नाना पाटेकर जी को भावभीनी श्रद्धांजलि! https://t.co/RHzo8gRfow
— Narendra Modi (@narendramodi) October 8, 2026
आज सुबह ही ये खबर आई है कि... मशहूर अभिनेता नाना पाटकेर जी अब हमारे बीच नहीं रहे। वो एक बेहतरीन कलाकार थे जिन्होंने अलग-अलग किरदारों के माध्यम से दर्शकों का दिल जीता: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
नाना पाटेकर जी का जीवन... तिरंगे की आन-बान और शान के लिए समर्पित रहा। वो बंधनों में नहीं रहे...परिंदे की तरह फिल्मों के आसमान में उड़े। उन्होंने समाज में व्याप्त अव्यवस्था पर अपनी फिल्मों से माध्यम से करारा प्रहार किया... वे एक ऐसे क्रांतिवीर थे, जिन्होंने बुराइयों के विरुद्ध काम किया। उनकी वाणी जितनी तेज थी...उनकी खामोशी भी उतनी ही प्रभावी थी। वो देश विरोधियों पर निरंतर अंकुश के समर्थक थे। मैं नाना पाटेकर जी को श्रद्धांजलि अर्पित करता हूं और उनके परिवारजनों और चाहने वालों के प्रति संवेदना व्यक्त करता हूं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
बीते 10-12 वर्षों में mobile phone... आधुनिक communication के माध्यम के साथ-साथ good governance का भी अहम tool बनकर सामने आया है। और ये, हमारे Digital India vision के core में रहा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
एक दशक पहले तक भारत में digital divide बहुत बड़ी चुनौती थी। आधुनिक technology एक privilege बनती जा रही थी। यानि जिसके पास साधन है, वही आधुनिक technology का लाभ ले सकता था... भारत में यही स्थिति बनती जा रही थी। Digital India अभियान से हमने इस स्थिति को बदलने की ठानी... और इसके centre में mobile phone को लेकर आए। ये technology के democratisation का बहुत बड़ा प्रयास था: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
आज सरकार की सैकड़ों services mobile phone पर हैं। सरकारी मदद अब सीधे beneficiaries के खाते में जाती है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
Mobile phone सिर्फ chat का माध्यम नहीं रहा... बल्कि इसने... Less Travel... Less Waiting... Less Cost... More Convenience... ये सबकुछ ensure किया है। यही... Technology का सबसे बड़ा Citizen dividend है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
भारत में mobile phone... आज Gaming console भी है... और creation का studio भी बन गया है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
आज जब telecom और digital technology का इतना महत्व है... तब इससे जुड़े security framework को भी... चाक-चौबंद करना आवश्यक है। Phone की Security और Network की Security... ये हम सभी की प्राथमिकता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
Deepfakes कितनी बड़ी चुनौती बन चुकी है... ये भी हम देख रहे हैं। इसलिए जरूरी है कि हम इसके लिए एक Global Framework पर काम करें: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026
बीते वर्षों में भारत ने... Consumer से Creator बनने की यात्रा तय की है। अब भारत, उस लक्ष्य की तरफ बढ़ रहा है... जहां product, design भी भारत में होगा... उसकी technology और IP भी भारत की होगी: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 8, 2026