Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

দিল্লিতে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি শীর্ষ সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বাংলা অনুবাদ

দিল্লিতে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি শীর্ষ সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বাংলা অনুবাদ


নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর  ২০২৬

 

আমার মন্ত্রিসভার সহকর্মী শ্রী প্রহ্লাদ জোশী, শ্রী শ্রীপাদ নায়েক, শিল্পজগতের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারীরা, স্টার্টআপ জগতের সহকর্মীরা, পদস্থ আধিকারিকবৃন্দ, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সকলকে  আন্তরিক স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাই। এই বছরের সম্মেলন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এক বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, চলতি বছর জুড়েই জ্বালানি ক্ষেত্রে সৃষ্ট সংকট ও তার অভিঘাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আমাদের জীবনযাপন ও উন্নয়নের যাত্রায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির গুরুত্ব এ বছর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আনন্দের বিষয় হল, এই সম্মেলনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের নবম অধিবেশন। চতুর্থ গ্রিন হাইড্রোজেন সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরাও আজ এখানে উপস্থিত রয়েছেন। অর্থাৎ, এ বছরের এই আয়োজনের ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিশাল। আপনাদের সকলকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

বন্ধুরা,

গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি একের পর এক অভূতপূর্ব সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কোভিড অতিমারি থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সংকট—বিশ্বকে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ১৪০ কোটি ভারতবাসী গর্ব অনুভব করেন যে, আমরা অন্য অনেক দেশের তুলনায় এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা অনেক ভালোভাবে করতে পেরেছি এবং এত সংকটের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের হার উচ্চ পর্যায়েই থেকেছে। গত এক দশকে ভারত যদি পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করত এবং এই ক্ষেত্রে নতুন নতুন ব্যবস্থা গড়ে না তুলত, তাহলে আমাদের সংকটের অভিঘাত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারত।

বন্ধুরা,

এই বিশ্বব্যাপী সংকট প্রতিটি দেশের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। আর আমরা সকলেই জানি, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিহিত রয়েছে পরিচ্ছন্ন শক্তির মধ্যেই। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বারবার নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার সীমিত এবং তা বিশ্বের মাত্র কয়েকটি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা অফুরন্ত। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল এবং প্রতিটি দেশই এর সুফল পেতে পারে।

বন্ধুরা,

গত বারো বছরে এই ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রযাত্রা অঙ্গীকার, উদ্যম ও সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর প্রমাণ পাওয়া যায় COP-26 সম্মেলনে আমাদের গৃহীত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। ২০২১ সালের সেই সম্মেলনে ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি-বহির্ভূত উৎস থেকে ৫০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের সংকল্প গ্রহণ করেছিল। আমরা বলেছিলাম, আমরা এই লক্ষ্য পূরণ করব! প্যারিস সম্মেলনে গৃহীত অঙ্গীকার অনুযায়ী, ভারতের আরও একটি লক্ষ্য ছিল—দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেক জীবাশ্ম জ্বালানি-বহির্ভূত উৎস থেকে নিশ্চিত করা। ভারত ২০২৫ সালেই এই লক্ষ্য অর্জন করেছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই আমরা এই সাফল্য অর্জন করেছি। আজ দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশেরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি-বহির্ভূত উৎসের ওপর নির্ভরশীল। ৫০০ গিগাওয়াটের লক্ষ্যের দিকেও ভারত দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই আমরা প্রায় ৩০০ গিগাওয়াট ক্ষমতা অর্জন করেছি। আজ সৌরশক্তি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম। আগামী দশ থেকে এগারো বছরে আরও ৫০০ গিগাওয়াট নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি-বহির্ভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এই লক্ষ্য কিছুটা কঠিন, কিন্তু দেশের সক্ষমতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাই আমি বলছি—আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করবই!

বন্ধুরা,

আমরা চাই, ভারতের উদ্ভাবন এবং ভারতের অভিজ্ঞতা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে কাজে লাগুক। সবুজ শক্তির ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই। এই ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য বিশ্বের বহু দেশের উপকারে লাগতে পারে। কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছি।

বন্ধুরা,

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা চালু করেছিলাম। এই প্রকল্পের আওতায় এক কোটি বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গত মাত্র ২৪-২৫ মাসের মধ্যেই ৬৫ লক্ষেরও বেশি বাড়ি এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমাদের মন্ত্রী শ্রী প্রহ্লাদ জোশী একটু আগেই যেমন উল্লেখ করেছেন, প্রতি ছয় দিন অন্তর এক লক্ষ নতুন বাড়ি এই সৌরশক্তি আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠছে।

এর প্রভাব বিদ্যুতের বিলেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ৬৫ লক্ষ পরিবারের বিদ্যুতের বিল প্রায় ৭৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। এমন লক্ষ লক্ষ পরিবার রয়েছে, যাদের বিদ্যুতের বিল এখন শূন্যে নেমে এসেছে। আবার বহু পরিবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করার মাধ্যমে আয়ও করছে। বিশেষ করে দক্ষিণী বিশ্বের বহু দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বন্ধুরা,

ভারত তার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সৌরশক্তিকে যুক্ত করছে। গত বারো বছরে আমরা শিল্পক্ষেত্র এবং কৃষিকাজের সঙ্গেও সৌরশক্তির সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করেছি। বর্তমানে ভারতের ৪৪ হাজারেরও বেশি সরকারি ভবন সৌরশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। কুসুম (KUSUM) প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের কৃষকরাও ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এই প্রকল্পের আওতায় ৩০ লক্ষেরও বেশি কৃষক সৌরশক্তিচালিত সেচের সুবিধা পেয়েছেন। হিসেব অনুযায়ী, সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারকারী প্রত্যেক কৃষক বছরে প্রায় এক লক্ষ টাকা সাশ্রয় করছেন।

প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনার কথাও আপনাদের জানাতে চাই। এই প্রকল্পের মূল ধারণা হল, পুকুর, হ্রদ ও জলাধারের ওপর সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এর ফলে জলাশয়গুলির আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হয়। পাশাপাশি, জমি অধিগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যয়ও কমানো যায়।

বন্ধুরা,

আমাদের পরিচ্ছন্ন শক্তির পরিসর কেবল জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং পারমাণবিক শক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রিন হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে বড়সড় অগ্রগতির লক্ষ্যে ভারত মিশন মোডে কাজ করছে। জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের আওতায় চলতি দশকের শেষ নাগাদ ৫০ লক্ষ টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহণ ক্ষেত্রকেও আমরা গ্রিন হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত করছি। মাত্র কয়েক মাস আগেই ভারত প্রথম গ্রিন হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করেছে।

বন্ধুরা,

আপনারা সকলেই বিশেষজ্ঞ হিসেবে জানেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই যথেষ্ট নয়। সেই বিদ্যুৎ দক্ষতার সঙ্গে বণ্টন করা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের কিছু অঞ্চলে সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, সেই অঞ্চলগুলিও যেন এর সুফল পায়। যাতে সেখানকার বাড়িঘর, কৃষিক্ষেত্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিও পরিচ্ছন্ন শক্তির সাহায্যে পরিচালিত হতে পারে।

এই কারণেই গ্রিন এনার্জি করিডর গড়ে তোলা হচ্ছে। এই করিডরগুলির আওতায় বিদ্যুৎ পরিবহণের জন্য একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সঞ্চালন লাইন ও সাবস্টেশন। এর ফলে যেখানে সৌর ও বায়ুশক্তি উৎপাদিত হচ্ছে, সেখান থেকে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এমন অঞ্চলে তা পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হচ্ছে। এই প্রচেষ্টায় ‘এক দেশ, এক বিদ্যুৎ গ্রিড’-এর অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলিতে আমরা পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রিডকে একত্রিত করে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। আজ সমগ্র দেশ একই কমন ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিচালিত একটি বিদ্যুৎ গ্রিডের মাধ্যমে সংযুক্ত। গ্রিন এনার্জি করিডর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে আমরা এখন এর পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করেছি। সম্প্রতি ভারত এই উদ্দেশ্যে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বন্ধুরা,

সবুজ শক্তির ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ হল ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা। কয়েক বছর আগেও সৌরশক্তি সংক্রান্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের জন্যও আমাদের সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হত। এক দশক আগে আমাদের সৌর মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র প্রায় ২ গিগাওয়াট। আজ তা ২০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে। সৌর কোষ উৎপাদন ক্ষমতাও প্রায় ৪০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। এখন আমরা অন্যান্য যন্ত্রাংশের উৎপাদনও সম্প্রসারিত করছি। অর্থাৎ, সবুজ শক্তির ক্ষেত্রে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলি আমাদের আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের সাফল্য এবং মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির সাফল্যেরও প্রমাণ।

বন্ধুরা,

অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ভারতকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এখানে থেমে থাকলে চলবে না। প্রতিটি সরকারি ভবন, প্রতিটি স্কুল ও কলেজ, প্রতিটি হাসপাতাল এবং পথ আলোকিত করার সমগ্র ব্যবস্থাকে দ্রুততার সঙ্গে সৌরশক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনগুলির মধ্যে এ বিষয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত। যারা ভালো কাজ করবে, তাদের পুরস্কৃত করা যেতে পারে। অন্যরাও তাদের সাফল্যের কাহিনি থেকে শিক্ষা নিতে পারবে।

বন্ধুরা,

কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার নিয়ে আমার আরও একটি পরামর্শ রয়েছে। আমরা লক্ষ লক্ষ সৌরচালিত পাম্প বিতরণ করেছি। কিন্তু এখন আমাদের সৌর পাম্পের গণ্ডি পেরিয়ে আরও এগিয়ে যেতে হবে। আমার স্বপ্ন হল, ‘অন্নদাতা’ যেন ‘শক্তিদাতা’ হয়ে ওঠেন—যিনি আমাদের খাদ্য জোগান দেন, তিনিই যেন শক্তির জোগানদারও হয়ে ওঠেন। কৃষকদের তাঁদের অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপন করতে হবে। এমনকি জমির সীমানাও যেন অব্যবহৃত না থাকে; সেখানেও সৌর প্যানেল বসানো উচিত। এই উদ্যোগ যত বেশি সম্ভব গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

বন্ধুরা,

সৌর বিপ্লবের এই নতুন পর্যায় কেবল সৌরশক্তি গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সাফল্য নির্ভর করছে উদ্ভাবনের ওপরও। তাই আমাদের স্টার্টআপ, আইআইটি, উদ্ভাবক এবং উদ্যোগপতিদের কাছে আমি বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি—আপনারা এগিয়ে আসুন এবং এমন মডেল তৈরি করুন, যার মাধ্যমে একটি পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনের যত বেশি সম্ভব অংশ সৌরশক্তির সাহায্যে মেটানো যায়।

আমাদের এমন সমাধান প্রয়োজন, যার মাধ্যমে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এবং বছরের প্রতিটি ঋতুতেই সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হবে। আমাদের এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনও পরিবার নিজের বাড়ির ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করতে পারবে। আমাদের পরিচ্ছন্ন রান্নার এক নতুন আন্দোলন শুরু করতে হবে। আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা যতটা সম্ভব কমাতে হবে।

একইভাবে, আরও বেশি সংখ্যক মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাঁরা যেন নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বাড়িতেই স্কুটার, মোটরবাইক ও গাড়ি চার্জ করতে পারেন। এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

বন্ধুরা,

দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষেত্রেও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারে, এমন পণ্য ও সরঞ্জাম আমাদের প্রয়োজন। পশুখাদ্য প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ফসল কাটা এবং ফসল কাটার পরবর্তী বিভিন্ন কাজ—প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য সৌরশক্তিচালিত যন্ত্রপাতি তৈরি করতে হবে।

বন্ধুরা,

পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভাবন ছাড়া এই সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য দেশের প্রয়োজন উপযুক্ত হার্ডওয়্যার বা প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম। আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত শক্তি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নতুন ব্যাটারি স্টোরেজ বা বিদ্যুৎ সঞ্চয় ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আপনাদের সকলের পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছেও এটি এক বিরাট সুযোগ। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে আমার আবেদন, এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। ভারতে আপনারা যে সমাধান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবেন, তা বিশ্বের বহু দেশের কাজে লাগবে।

বন্ধুরা,

ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণ দেশ। পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি উদ্যোগই বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই এই ক্ষেত্রে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। সবুজ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও অত্যন্ত ব্যাপক। সৌর প্যানেল ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উৎপাদন থেকে শুরু করে সেগুলির স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষেবা প্রদান এবং পরিবহণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়লে কত বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তা একবার ভেবে দেখুন। রান্নাঘরের চুল্লি থেকে শুরু করে পরিবহণ ব্যবস্থা—যখন সবকিছু সৌরশক্তি ও সবুজ শক্তির সাহায্যে পরিচালিত হবে, তখন সম্পূর্ণ নতুন একটি শিল্পক্ষেত্রের উত্থান ঘটবে।

বন্ধুরা,

আপনাদের সকলের জন্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারত আজ বিপুল সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। ভারতে যে ধরনের চাহিদা, ব্যাপকতা এবং সুযোগ রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন। একইভাবে, ভারতে যে ধরনের রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা রয়েছে, তারও তুলনা মেলা ভার। আর আমরা এর সুফল দেখতে পাচ্ছি।

গত এক দশকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে ১৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি, অর্থাৎ ১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২৪ সালের রি-ইনভেস্ট শীর্ষ সম্মেলন থেকে আজ পর্যন্ত মাত্র দুই বছরে এই ক্ষেত্রে প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ এসেছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই দশকের শেষ নাগাদ এই ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তাই ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তি ক্ষেত্রে আপনাদের সকলের সামনে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

বন্ধুরা,

ভারত বিশ্বকে ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’-এর বার্তা দিয়েছে। পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রযাত্রাতেও এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সৌর জোটের মূল ভাবনাও এটাই। আমাদের প্রচেষ্টা হল, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞের সহায়তা যেন প্রতিটি প্রয়োজনীয় দেশের কাছে পৌঁছে যায়। সেই কারণেই আফ্রিকার জন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘আফ্রিকা সোলার ফেসিলিটি’ গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বন্ধুরা,

জলবায়ু সংক্রান্ত আমাদের লক্ষ্যগুলি অর্জনের ক্ষেত্রে আগামী দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই সম্মেলনে উপস্থিত আপনারা প্রত্যেকেই সেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এই অভিযানের সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি দেশকে যুক্ত করতে হবে। প্রতিটি অঞ্চলকে এই রূপান্তরের অংশীদার করে তুলতে হবে। তাহলেই আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।

আপনাদের সকলকে আরও একবার জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ধন্যবাদ।

 

MH/SD/NS