Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহে ভাষণ দিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহে ভাষণ দিয়েছেন


নয়াদিল্লি, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন (সিবিসি)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আজ ভিডিও মেসেজের মাধ্যমে কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহে ভাষণ দিয়েছেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল রেখে জনপরিষেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত দ্রুত পরিবর্তনশীল জগতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং তাকে প্রশাসনের মেশিনারিতে নিয়মিত আপডেট করতেই হয়। শ্রী মোদী বলেছেন, “কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহ এই প্রয়াসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যাতে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী প্রাসঙ্গিকতা পায় আমাদের জনপরিষেবা।”

বর্তমানে প্রশাসনের দিক নির্দেশকারী দর্শনের ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন চালনার মূল মন্ত্রটি হল ‘নাগরিক দেবো ভব’। অর্থাৎ নাগরিকদের সবচেয়ে ওপরে স্থান দেওয়া। তিনি বলেন, জনপরিষেবাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে আরও সক্ষম এবং নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “প্রশাসনকে একটি নতুন পরিচিতি দেওয়া হচ্ছে তাকে প্রকৃত নাগরিককেন্দ্রিক করে তুলে।”

ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছিল। অথচ বোঝা যাচ্ছিল প্রত্যেক সরকারি কর্মচারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আছে। তিনি বলেন, “সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন যা আলোকপাত করে শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মযোগীর ক্ষমতায়নের ওপর।” প্রতিষ্ঠা দিবসে সিবিসিকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং আইগট মিশন কর্মযোগীর সফল ভূমিকাকে স্বীকৃতি জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, তাঁর বিশ্বাস এই সকল প্রয়াস আধুনিক সক্ষম, নিষ্ঠাবান এবং সংবেদনশীল কর্মযোগীদের একটি দল তৈরি করবে।

বিকশিত ভারতের মহান ভাবনার সঙ্গে এই উদ্যোগকে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী সেবা তীর্থের উদ্বোধনে তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং পুনরায় জানান দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, আধুনিক পরিকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৃহৎ মাত্রায় দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তার কথা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী কর্মীদের এই লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

শ্রী মোদী পুনরায় বলেন, “বর্তমানকালের ভারত গভীরভাবে প্রত্যাশামুখী, প্রত্যেক নাগরিকের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য আছে এবং তা পূরণ করতে যথাসম্ভব বেশি সহায়তা করার দায়িত্ব বর্তায় আমাদেরই ওপরে।”

ইজ অফ লিভিং এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার উন্নতি করতে প্রশাসনকে মাপকাঠি করতেই হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার এবং প্রকৃত অর্থে কর্মযোগী হয়ে ওঠার আবেদন জানান। শ্রী মোদী বলেন, “আমাদের প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে যেন নাগরিকদের জীবনের মান প্রতিদিন উন্নত হয়। এটাই আমাদের প্রকৃত মাপকাঠি।“

প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে মৌলিক বদলের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরনো ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হত ‘অফিসার’ হয়ে উঠতে, কিন্তু এখন দেশের লক্ষ্য পুরোপুরি কর্তব্যবোধের ওপর। তিনি মনে করিয়ে দেন যে সংবিধান নিজেই কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার অর্জনের কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের আগে যখন আপনি ভাববেন যে আপনার কর্তব্য কী বলে, তখন আপনার সিদ্ধান্তগুলির প্রভাব স্বাভাবিকভাই কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।”

সরকারি কর্মচারীদের তাদের বর্তমান কাজকে ভবিষ্যতের আরও বড় প্রেক্ষাপটে দেখার আবেদন জানিয়ে তিনি তাঁদের দেখতে বলেন, যে কীভাবে তাঁদের এক একটি সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এবং কীভাবে একজনের বদল গোটা প্রতিষ্ঠানের বদল ঘটাচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের রূপান্তরকারী কাজের জন্য চাই প্রবল শক্তি। তিনি বলেন, “এই শক্তি আসতে পারে শুধুমাত্র স্বার্থহীন সেবার আদর্শ থেকেই।” 

প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য গুরুত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে গত ১১ বছর ধরে প্রশাসন থেকে পরিষেবা প্রদান এবং অর্থনীতি পর্যন্ত। কৃত্রিম মেধার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবর্তনগুলি আরও গতি পাবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “একজন ভালো প্রশাসক, একজন ভালো কর্মচারী সেই হতে পারে যিনি প্রযুক্তি এবং ডেটা সম্পর্কে অত্যন্ত সাবলীল। এটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সক্ষমতাবর্ধন এবং লাগাতার এআই সম্পর্কে শিক্ষা সাধনা সপ্তাহে মূল বিষয় হয়ে উঠবে। 

ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাফল্য সবকটি রাজ্যের মিলিত সাফল্যের ফল। তিনি বলেন, প্রাচীন রীতির শ্রেণীবিন্যাসকরণ, অগ্রবর্তী রাজ্য, পশ্চাৎবর্তী রাজ্য, অসুস্থ রাজ্য সেই ভাবনা ঝেড়ে ফেলা হয়েছে এবং রাজ্যগুলির মধ্যে যে ফারাক তা মেটাতে হবে প্রয়াসের অভিন্ন তীব্রতার মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের গতানুগতিকতা ছেড়ে এগিয়ে যেতে হবে আরও ভালো সমন্বয়, বোঝাপড়া এবং সরকারের পুরো ব্যবস্থা ব্যবহার করার মাধ্যমে, তবেই প্রত্যেকটি লক্ষ্য সফল হবে।”

ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের মনে করিয়ে দেন যে সাধারণ নাগরিকদের কাছে স্থানীয় সরকারি অফিস গোটা সরকারের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, কর্মচারীদের কাজের ধরন, আচরণ সরাসরি গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে। শ্রী মোদী বলেন, “যাই আমরা করি, যে কোনও স্তরে, আমাদের এই আস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে, কারণ সেটাই আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি।” তিনি আরও একবার ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনকে অভিনন্দন জানান এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে ভারতের যাত্রাপথে কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠবে বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি জানান।

 

SC/AP/NS…