Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন


নতুন দিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্স (এসআরসিসি)-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অনুষ্ঠানটি কলেজ এবং দেশের শিক্ষা ক্ষেত্র – উভয়ের জন্যই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ এখানে বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। শ্রী মোদী বলেন, “আমি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী রাম জির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁর দূরদর্শী চিন্তাধারার প্রতি মাথা নত করছি।”

 

কলেজ এবং দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য এই ১০০ বছরের মাইলফলকের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠাতা শ্রী রাম জির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। শ্রী মোদী বলেন, “যখন কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০ বছরে পদার্পণ করে, তখন তা সাফল্য ও অনুপ্রেরণার এক মহাসমুদ্রে পরিণত হয়।”

 

দরিয়াগঞ্জের একটি সাধারণ প্রতিষ্ঠান থেকে এক বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে কলেজটির যে অসাধারণ বিবর্তন ঘটেছে, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এটি বহু প্রজন্মকে গড়ে তুলেছে। তিনি বর্তমান সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে জড়িত বিপুল গর্বের বিষয়টি স্বীকার করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এমনকি আজও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডিইউ) নিজেকে এসআরসিসি-র ছাত্র বা প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়াটা এক বিশেষ গর্বের বিষয়।”

 

কলেজটির গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এসআরসিসি-র প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক হিসেবে অভিহিত করেন, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। তিনি প্রয়াত অরুণ জেটলি এবং সঞ্জীব সান্যালের মতো বিশিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই প্রতিষ্ঠানের স্নাতকরা শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও বিচারক হিসেবেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। শ্রী মোদী বলেন, “অর্থাৎ, এসআরসিসি-র প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজেদের সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।”

 

বর্তমান অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা স্মৃতিকাতরতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, মানুষ এই কলেজে ২০১৩ সালে দেওয়া তাঁর আগের ভাষণটি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং পুনরায় শুনছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই ভাষণটি এমন এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল যার ইতিবাচক ফলাফল ১৩-১৪ বছর পরেও অটুট রয়েছে। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, “দেশের সেবায় নিজেকে সর্বান্তকরণে উৎসর্গ করার যে গভীর আবেগ আমার অন্তরে ছিল, সেদিন আমার কথায় তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।”

 

অতীতের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সাফল্যের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করা হয়েছে; সশস্ত্র বাহিনী দেশের শত্রুদের ডেরায় গিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আঘাত হানছে এবং জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত এখন তার নীতিগত গতিশীলতা এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। “পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং বিশ্ববাণিজ্যের নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের অন্তর্নিহিত সক্ষমতারই প্রমাণ,” জোর দিয়ে বললেন শ্রী মোদী।

 

যারা সবসময় সমালোচনায় মগ্ন থাকেন, তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক যানবাহন বিক্রি ২০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে – যার মূলে রয়েছে দু-চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং তিন-চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। তিনি যুক্তি দেন যে, ইস্পাত ও সিমেন্টের ব্যবহার ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে নির্মাণ, আবাসন এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, “তা সত্ত্বেও, ২০১৩ সালে যারা গ্লাসটিকে ‘অর্ধেক খালি’ হিসেবে দেখেছিলেন, আজও তাঁদের মানসিকতা ঠিক তেমনই রয়ে গেছে।”

 

জন-কেন্দ্রিক সুশাসন বা ‘প্রো-পিপল গুড গভর্নেন্স’ (পি-টু জি-টু)-এর বিষয়ে ২০১৩ সালে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ বা কেবল পরিস্থিতির চাপে সাড়া দেওয়ার নীতি চিরতরে বর্জন করেছে। তিনি ‘জন ধন যোজনা’-র ১২ বছরের সাফল্যকে এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতের ১২৫ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না; অথচ বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০ কোটি নাগরিককে ব্যাংকিং পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আজ দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যা ভারতের ফিনটেক বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।”

 

শুরুর দিকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ নিয়ে যে উপহাস করা হয়েছিল, তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশটিকে বিপুল আমদানিকারক থেকে শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি গর্বের সঙ্গে জানান যে, স্মার্টফোন রপ্তানির পরিমাণ এখন ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি, দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে; এর ফলে ২০১৩-১৪ সালে মাত্র ৬০০-৭০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রপ্তানি আজ ৪০,০০০ কোটি টাকার বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “আমি এমন কোনো ব্যক্তি নই যিনি ছোট ও সহজ লক্ষ্য নিয়ে পথ চলেন; আমি দেশের জন্য বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করি এবং তা অর্জনে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি।”

 

দেশের তরুণসমাজ ও ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সক্ষমতার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বনির্ভর ও পূর্ণাঙ্গ উন্নত ভারতের জন্য এক বলিষ্ঠ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন – যার মধ্যে রয়েছে কৃষি-রপ্তানিতে মহাশক্তি হয়ে ওঠা, নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপন এবং ভবিষ্যতে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করা। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এগুলো কেবল কথার কথা নয়, এগুলো আমাদের দৃঢ় সংকল্প।”

 

ক্যাম্পাসের প্রাণবন্ত পরিবেশ – যেমন ‘কো-অপ’-এ চা-চক্র, ‘ক্রসরোডস’ বা ‘বিজনেস কনক্লেভ’-এর স্মৃতিচারণ থেকে বাস্তব জগতের প্রেক্ষাপটে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন সেই সব হতাশাবাদী ও নেতিবাচক মানসিকতার মানুষদের বিষয়ে, যারা দেশের অগ্রগতির পথে সর্বদা বাধা সৃষ্টি করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন কীভাবে এই সমালোচকরা বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি (স্ট্যাচু অফ ইউনিটি), দ্রুতগতির ট্রেন, ইউপিআই এবং নতুন সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। শ্রী মোদী বলেন, “কিন্তু ভারত তার জবাব দিয়েছে: দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কোনো কাজ করা থেকে ভারতকে কেউ আটকাতে পারবে না।”

 

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের অভূতপূর্ব গতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্প সম্পন্ন করতে আগে কয়েক দশক সময় লাগত, সেগুলো এখন মাত্র কয়েক বছরেই শেষ হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দেন যে, ১৯২৫ সালে ভারতে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চললেও ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশেরও কম রেললাইন বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় এসেছিল; অথচ তাঁর সরকার মাত্র ১২ বছরে প্রায় ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি চামড়া, বস্ত্র ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শ্রী মোদী বলেন, “এটি ভারতের তরুণদের জন্য সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।”

 

শ্রী মোদী কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো কঠিন ও আধুনিক সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাঁর সরকারের দৃঢ়তার কথা স্মরণ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমার দেশের মানুষের আশীর্বাদে এতটাই শক্তি রয়েছে যে, যারা ভারতের অমঙ্গল চায়, তাদের সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।”

 

একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানসিকতাকে উৎসাহিত করে প্রধানমন্ত্রী ‘ইউনিকর্ন’ গড়ে তোলা, ড্রোন প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন এবং অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক সমাধান তৈরির ক্ষেত্রে তাদের উদ্যম ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি তাদের আগের প্রজন্মের চেয়েও বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন বৈশ্বিক পরামর্শদানকারী (কনসাল্টিং), হিসাবরক্ষণ (অ্যাকাউন্টিং), আর্থিক ও আইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে বলেন। তিনি বলেন, “আজ ভারতীয়রা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে; তাহলে ভারতীয়দের গড়ে তোলা কোম্পানিগুলো কেন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারবে না?” শ্রী মোদী এ কথা উল্লেখ করেন।

 

এসআরসিসি কলেজের প্রতীক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের যাত্রাপথকে এক দিকনির্দেশক সূর্যের অভিমুখে এগিয়ে চলা জাহাজের সঙ্গে চমৎকারভাবে তুলনা করেন। তিনি সকলকে আত্মনির্ভরশীলতার এক নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান – যে পথে সাহস, স্বপ্ন এবং চূড়ান্ত বিজয় – সবকিছুরই দাবিদার হবে একমাত্র ভারত। শ্রী মোদী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “বিকশিত ভারতের পথে প্রতিটি দ্রুত অগ্রগামী পদক্ষেপ আমাদেরই হতে হবে।” 

 

 

SC/SB/AS