Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্স (এসআরসিসি)-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্স (এসআরসিসি)-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ


নতুন দিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রী প্রহ্লাদ জোশী জি, ডিইউ(দিল্লি ইউনিভার্সিটি)-এর উপাচার্য যোগেশ সিং জি, এসআরসিসি-এর অধ্যক্ষ সিমরিত কৌর জি, অজয় জি, মল্লিকা জি, রজত জি, এসআরসিসি-র সঙ্গে যুক্ত সকল সহযোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং আমার তরুণ বন্ধুগণ!

 

আমি ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আজকের এই অনুষ্ঠানটি শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্স (এসআরসিসি)-এর জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং দেশের শিক্ষাজগতের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এসআরসিসি-র বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। এসআরসিসি-র এই শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার শ্রী রাম জি-র প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি এবং তাঁর দূরদর্শী চিন্তাধারাকে প্রণাম জানাচ্ছি।

 

বন্ধুগণ,

 

একজন মানুষ যখন ১০০ বছর বাঁচেন, তখন তাঁকে অভিজ্ঞতার আধার বা মহাসাগর বলে মনে করা হয়। আর কোনো প্রতিষ্ঠান যখন ১০০ বছর পূর্ণ করে, তখন তা হয়ে ওঠে সাফল্য ও অনুপ্রেরণার মহাসাগর। ১০০ বছরের এই যাত্রাপথে এসআরসিসি বহু প্রজন্মকে গড়ে তুলেছে এবং তাঁদের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যারা এখানে এসেছেন তাঁরা পড়াশোনা করেছেন, আর যাঁরা এখান থেকে বেরিয়ে গেছেন, তাঁরা সুগঠিত ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বেরিয়ে এসেছেন। এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল দরিয়াগঞ্জের এক ছোট পরিসরে; আর আজ সেই ছোট কলেজটি এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এমন এক বৃক্ষ যা বহু প্রজন্মকে ছায়া দিয়েছে এবং তার স্নিগ্ধতায় তাঁদের সমৃদ্ধ করেছে। আজও ডিইউ-তে কেউ যখন জিজ্ঞেস করেন কোন কলেজ, তখন এসআরসিসি-র নাম বলাটাই এক বিশেষ গর্বের বিষয়।

 

বন্ধুগণ,

 

এসআরসিসি-র প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত বিশেষ। আপনাদের ভাষায় বলতে গেলে, এখানকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হলেন ওজিএস – অর্থাৎ আসল বা প্রকৃত পথিকৃৎ – যারা বিশ্বের দরবারে এসআরসিসি-র নাম ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের ছাপ রেখেছেন। রজত জি একটি দীর্ঘ তালিকা উল্লেখ করেছেন। আমিও তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের অরুণ জেটলি জি এখানেই পড়াশোনা করেছিলেন। আমি এ-ও বলতে পারি যে, তাঁর সঙ্গে এমন কোনো বৈঠক হয়তো হয়নি যেখানে তিনি এসআরসিসি-র কোনো না কোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি। কখনও কখনও আমি ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, কারণ তিনি একই ঘটনার কথা বারবার বলতেন। বর্তমানে আমার দলে থাকা সঞ্জীব সান্যাল জি-ও এখান থেকেই পড়াশোনা করেছেন। আরও অনেক সহযোগী এখানে উপস্থিত আছেন। আর এমন নয় যে এখান থেকে কেবল অর্থনীতি জগতের মানুষই বেরিয়ে এসেছেন – এখান থেকে বহু শিল্পী, নেতা, আইনজীবী এবং বিচারকও উঠে এসেছেন। অর্থাৎ, এসআরসিসি-র শিক্ষার্থীরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাড়া জাগিয়েছেন। তাঁরা সবাই হয়তো বিশাল কোনো ব্যক্তিত্ব নন, কিন্তু তাঁরা নিশ্চিতভাবেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

গত কয়েক দিন ধরে এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে মানুষ আমার ২০১৩ সালের ভাষণটির কথা স্মরণ করছেন। মানুষ সেটি আবার শুনেছেন, আবার পড়েছেন। এমনও হতে পারে যে নতুন প্রজন্মও এটি নতুন করে দেখেছে। আমি বলতে পারি, সেই ভাষণটি একটি ঢেউ বা আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। আর আজও, ১৩-১৪ বছর পরেও, সেই সমাবেশ ও ভাষণের প্রভাব রয়ে গেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

তখন আপনাদের জায়গায় আপনাদেরই অগ্রজরা বসেছিলেন। আর আমি তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিরোধী দলের একজন সদস্যও ছিলাম। সম্ভবত মানুষ তখন আশা করেছিলেন যে আমি তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আক্রমণ শানাব এবং অভিযোগের বন্যা বইয়ে দেব।

 

কিন্তু বন্ধুগণ,

 

বিরোধী দলে থাকা সত্ত্বেও এবং তৎকালীন সরকারের সমালোচক হওয়া সত্ত্বেও, আমি সেই মঞ্চকে তার জন্য ব্যবহার করিনি। আমি একটি ভিশন বা দূরদর্শী চিন্তাধারা তুলে ধরেছিলাম এবং ইতিবাচক কথা বলেছিলাম। তখন আমি যা কিছু বলেছিলাম, তা ছিল আমার গভীর বিশ্বাস। আমি সর্বদা সেই কথা ও স্বপ্নগুলোকে ধারণ করে জীবন অতিবাহিত করেছি। আমি সবসময় সেই পথেই হেঁটেছি – দেশের জন্য নিজেকে সর্বান্তকরণে উৎসর্গ করা এবং দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে চলা। আমার সেই অন্তর্জগৎ ও আবেগের জগতটি ২০১৩ সালের সেই দিনটিতে, ঠিক এই মঞ্চ থেকেই শব্দের মালার মতো একে একে বেরিয়ে এসেছিল। আর আমি দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেছিলাম। তখন আমি শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আমি আরও বলব কি না, আর তারা উচ্চস্বরে বলেছিল, “হ্যাঁ, চালিয়ে যান।”

 

বন্ধুগণ,

 

সেদিন আমি এক গ্লাস জলের উদাহরণ দিয়েছিলাম এবং তা নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। অর্ধেক জলভর্তি একটি গ্লাসের দিকে তাকানোর তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি আমি ব্যাখ্যা করেছিলাম। প্রথমত, যারা গ্লাসটিকে অর্ধেক জলভর্তি হিসেবে দেখেন। দ্বিতীয়ত, যারা গ্লাসটিকে অর্ধেক খালি হিসেবে দেখেন। এবং তৃতীয়ত, যারা গ্লাসটিকে সম্পূর্ণ পূর্ণ হিসেবে দেখেন – যার অর্ধেকটা জল এবং বাকি অর্ধেকটা বাতাস।

 

বন্ধুগণ,

 

সে সময়টা ছিল যখন দেশ হতাশার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল। তখনও আমি বলতাম যে, আমি গ্লাসটিকে অর্ধেক খালি বা অসম্পূর্ণ হিসেবে দেখি না – আমি গ্লাসটিকে সম্পূর্ণ পূর্ণ হিসেবেই দেখি। অর্ধেক জল আর অর্ধেক বাতাস দিয়ে পূর্ণ। সেই সময়ে আপনারা হয়তো স্কুলে পড়তেন; কিন্তু আজ যদি ইন্টারনেটে ২০১৩ সাল বা তার আশেপাশের সময়ের খবরগুলো দেখেন, তবেই বুঝতে পারবেন পরিস্থিতি কেমন ছিল। আমি তরুণদের অনুরোধ করব – ইন্টারনেটে একবার ২০১৩ সালের সেই সময়টার দিকে তাকান, আমার সে সময়ের ভাষণ বা বক্তব্য নিয়ে কী ধরনের শিরোনাম হতো তা দেখুন। সংবাদপত্র হোক বা টিভি চ্যানেল – তখনকার শিরোনামগুলো কেমন ছিল? আসুন, আপনাদের সেই শিরোনামগুলোর একটা ঝলক দেখাই। এখন এমন একটা গোষ্ঠী আছে যারা আমার কথাগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে আমারই বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করে; তাই আমি আগেই সতর্ক করে দিচ্ছি যে, আমি আপনাদের যা বলছি তা হলো ২০১৩ সালে সংবাদমাধ্যমে প্রাধান্য পাওয়া বিষয়গুলো, যেমন:

• নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) ভারতীয় জওয়ানদের হত্যা – আজকের প্রজন্মের কাছে হয়তো এমন ঘটনা অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু সত্যিই এমনটা ঘটেছিল।

• বিশ্বব্যাঙ্ক কর্তৃক জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস।

• চলতি খাতে ঘাটতি সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

• মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় দশ শতাংশ।

• শিল্পখাত মন্দার কবলে।

• হেলিকপ্টার চুক্তিতে ঘুষের ঘটনা ফাঁস।

• হায়দ্রাবাদে বোমা বিস্ফোরণ।

এগুলোই ছিল সে সময়ের শিরোনাম। আমি নিশ্চিত, আজকের শিক্ষার্থীরা এসবের কিছুই জানে না। এই বিষয়গুলোই বলে দেয় তখন দেশের অবস্থা কেমন ছিল। প্রবৃদ্ধির হার ছিল তলানিতে আর মুদ্রাস্ফীতি ছিল আকাশচুম্বী। দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি ছিল চরম পর্যায়ে এবং দুর্নীতিবাজরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াত। অর্থনীতির অবস্থা ছিল শোচনীয়; সর্বত্রই ‘পলিসি প্যারালাইসিস’ বা নীতি-অচলতার কথা শোনা যেত। বিশ্ব ভারতকে ফ্র্যাজাইল ফাইভ বা ভঙ্গুর অর্থনীতির পাঁচটি দেশের তালিকায় গণ্য করত। সন্ত্রাসবাদীরা ছিল লাগামহীন এবং পাকিস্তান ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। অর্থাৎ, তখন চারদিকে কেবল হতাশা আর নৈরাশ্যই বিরাজ করত।

 

বন্ধুগণ,

 

সেদিন প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশ কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছিল; আর আজকের চিত্রটা দেখুন – যারা সন্ত্রাসবাদ ছড়াত, তারা আজ কোণঠাসা। পাকিস্তান কোনো অপকর্ম করলে ভারতের বাহিনী তাদের ঘরে ঢুকে আঘাত হানে। জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল – সর্বত্রই শান্তি ফিরে এসেছে। মাওবাদী সন্ত্রাস ও নকশালবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যে বিশ্ব একসময় ভারতের নীতি-স্থবিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, আজ তারা ভারতের নীতি-গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করছে। একসময় বিশ্ব ভারতকে ফ্র্যাজাইল ফাইভ-এর অন্তর্ভুক্ত বলে অভিহিত করত; আজ সেই বিশ্বই ভারতকে দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে দেখছে। কেবল গত সপ্তাহেই ভারতের অর্থনীতি নিয়ে অনেক ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের উদ্দীপনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং একই সময়ে জাপানের একটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ভারতের রেটিং উন্নীত করেছে।

 

এবং বন্ধুগণ,

 

এই ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এমন এক সময়ে অর্জিত হয়েছে যখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলছে এবং বাণিজ্য-সংক্রান্ত নানা বাধা বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি জানি, আপনারাও জানেন, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এর তালিকায় ঠেলে দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিল, তারা এই পরিসংখ্যানগুলো মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু আপনারা সবাই এই সংখ্যাগুলোর গুরুত্ব বোঝেন। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯ শতাংশ বেড়েছে এবং গাড়ির বিক্রি ২০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুই-চাকার গাড়ির বিক্রি ২০ শতাংশ এবং তিন-চাকার গাড়ির বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর অর্থ হলো, ভোক্তা চাহিদা বাড়ছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। ইস্পাত ও সিমেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশ। এর মানে হলো, নির্মাণকাজ, আবাসন, পরিকাঠামো এবং শিল্প কর্মসূচি, সবই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অর্থ ভারত এগিয়ে চলেছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে। তা সত্ত্বেও, যারা ২০১৩ সালে গ্লাসটিকে ‘অর্ধেক খালি’ হিসেবে দেখেছিল, তাদের চিন্তাধারা আজও একই রয়ে গেছে। তাদের কাছে গ্লাসটি সবসময়ই অর্ধেক খালি থাকবে। আমি যখন গ্লাসের কথা বলছি, তখন আমি কোনো কিছু খালি থাকার কথা বলছি না।

 

বন্ধুগণ,

 

২০১৩ সালে এসআরসিসি-তে ভাষণ দেওয়ার সময় আমি ‘পি-টু জি-টু’ বা জন-কেন্দ্রিক সুশাসন-এর কথা বলেছিলাম। যারা দীর্ঘ সময় ধরে সরকার চালিয়েছে, তাদের একটি বিশেষ কর্মপদ্ধতি ছিল – আগুন লাগলে তবেই জেগে ওঠা, আর খরা দেখা দিলে তবেই কুয়ো খনন করা। আমি এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম। এবং ২০১৪ সালে সরকার গঠনের পর আমরা তা কাজে করে দেখিয়েছি। আপনাদের একটি উদাহরণ দিই।

 

বন্ধুগণ,

 

সম্প্রতি ‘জন ধন যোজনা’ ১২ বছর পূর্ণ করেছে। আজ আপনারা ফিনটেকের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন যুগে বাস করছেন; কিন্তু ২০১৩ সালের সেই দিনগুলোর কথা ভাবুন, যখন গ্রাম বা ছোট শহরের শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতেও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। সে সময় দেশের জনসংখ্যা ১২৫ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল, অথচ ২০১৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই ছিল না। আর যারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন, তাদের মধ্যে মূলত ছিলেন দরিদ্র মানুষ, নারী, পরিযায়ী শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীরা। ঠিক এই কারণেই আমরা ‘জন-ধন যোজনা’ চালু করেছিলাম; আর গত ১২ বছরে এই যোজনার সুবাদে প্রায় ৬০ কোটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আজ দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এটিই ভারতের ফিনটেক বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে উঠেছিল।

 

বন্ধুগণ,

 

এখন সেইসব মানুষের কথাও ভাবুন যারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল। আসলে, তারা তখনই খুশি হতো যখন পরিস্থিতি এমন থাকত যে সাধারণ মানুষ সাহায্যের জন্য তাদের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে থাকত—সেই তথাকথিত ‘মাই-বাপ’ (সর্বেসর্বা অভিভাবক) সংস্কৃতি তারা দশকের পর দশক ধরে জিইয়ে রেখেছিল। কিন্তু ইনি (নিজের দিকে আঙুল দেখিয়ে) হলেন মোদী – যারা সেই ‘মাই-বাপ’ সংস্কৃতি পছন্দ করত, তাদের সামনে তিনি পাহাড়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

একটি পুরনো প্রবাদ আছে: সত্য আগুনের ভয় পায় না। আমার সাহস আছে, আর তাই আমি আপনাদের সামনে আমার কাজের খতিয়ান তুলে ধরছি এবং সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। আমি জানি, সত্যের গর্জন বা জোরালো কণ্ঠস্বরের সামনে মিথ্যার প্রতিধ্বনি টিকতে পারে না।

 

বন্ধুগণ,

 

সেই ২০১৩ সালের অনুষ্ঠানেই যখন আমি মেড ইন ইন্ডিয়া-র ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছিলাম, তখন সেই পুরনো ব্যবস্থার বা ইকোসিস্টেমের লোকজন তা বুঝতেই পারেনি। তারা ভেবেছিল, হতাশার সেই যুগে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ আদৌ সম্ভব নয়! আর যারা সেই মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠেছে, তারা আজও ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-কে নিয়ে উপহাস করে।

 

কিন্তু বন্ধুগণ,

 

আজ আপনারা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র ব্র্যান্ড ভ্যালু বা গুরুত্ব দেখতে পাচ্ছেন। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। আজ সবার হাতে স্মার্টফোন। বিশ্বের বড় বড় ফোন নির্মাতা সংস্থাগুলো ভারতকে তাদের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ স্মার্টফোন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে ভারত তার প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের বেশিরভাগটাই বিদেশ থেকে আমদানি করত। আজ ভারত আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মোবাইল ফোন রপ্তানি করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি এমন কোনো মানুষ নই যিনি ছোট বা সহজ লক্ষ্য বেছে নেন। আমি দেশের জন্য বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করি এবং তা অর্জনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করি। প্রতিরক্ষা খাতের দিকেই তাকান। আগে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ জিনিসই বিদেশ থেকে কেনা হতো। ক্ষমতায় আসার পরপরই আমি প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছিলাম – একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা নিষিদ্ধ তালিকা তৈরি করুন। প্রথমে তারা ৫০০টি জিনিসের তালিকা তৈরি করল, জানিয়ে দিল যে এগুলো আমরা বাইরে থেকে আনব না। এরপর তারা ১,০০০ এবং পরে ৩,০০০ জিনিসের তালিকা তৈরি করল। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী – অনেক সময় ছোটখাটো সরঞ্জামের জন্যও তাদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিলে পরিকল্পনা করলাম, প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা তৈরি করলাম এবং তারপর ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে বললাম এসব কিছু তৈরি করতে। আজ আপনারা দেখছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারত প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন করছে। ২০১৩-১৪ সালে আমরা ৬০০-৭০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করতাম; আজ সেই সংখ্যা প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আর এই সাফল্যগুলো সম্ভব হয়েছে কারণ আজ দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের এক প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।

 

বন্ধুগণ,

 

দেশের ওপর আমার আস্থা আছে, দেশের সক্ষমতার ওপর আস্থা আছে এবং আপনাদের মতো তরুণদের ওপরও আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আর এই আস্থার ওপর ভিত্তি করেই আমি এক উন্নত ভারতের কথা বলছি। আমি নিশ্চিত যে, আমরা ১৪০ কোটি ভারতীয় মিলে আমাদের দেশকে উন্নত ও স্বনির্ভর করে তুলব।

• আগামী দিনে ভারত হবে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু। 

• আগামী দিনে ভারত গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

• কৃষি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারত এক মহাশক্তিতে পরিণত হবে।

 

আমার তরুণ বন্ধুগণ,

• ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন থাকবে।

• আপনারা এমন এক দিনও দেখবেন যখন ভারত এমনভাবে অলিম্পিক আয়োজন করবে যে সারা বিশ্ব বিস্ময়ভরা চোখে তা তাকিয়ে দেখবে।

আর এগুলো কেবল কথার কথা নয়, এগুলো আমাদের সংকল্প। আর এই সংকল্পগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য দেশজুড়ে নিরন্তর কাজ চলছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আপাতত আপনাদের জীবন এসআরসিসি মোডে চলছে। কো-অপ-এ চা খাওয়া, কোল্ড কফি নিয়ে আড্ডা, পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে নোট তৈরি, প্রিন্টআউটের জন্য ছোটাছুটি কিংবা ‘ক্রসরোডস’ ও ‘বিজনেস কনক্লেভ’-এর জন্য কঠোর পরিশ্রম—এখানকার প্রতিটি মুহূর্তকে আপনারা আপনাদের জীবনের অবিস্মরণীয় স্মৃতিতে পরিণত করেছেন। কিন্তু এই ক্যাম্পাসের বাইরে আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক নতুন জগৎ। সেখানে আপনারা দু-ধরনের মানুষের দেখা পাবেন। একদল মানুষ, যারা সমাজের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেশের শক্তিতে রূপান্তরিত করে। আর দ্বিতীয় দলটি হলো তারা – যেকোনো কাজ শুরু হলেই যারা সেই তথাকথিত ‘রাগী আঙ্কেল’-এর মতো আচরণ করতে শুরু করে। সবকিছুর বিরোধিতা করাই তাদের প্রিয় কাজ। তাদের মুখে সবসময় একটাই বুলি – “এটার কী দরকার? এটার কী দরকার?” – এই ধরনের ‘আঙ্কেল’-দের মুখে সবসময়ই এই কথাটি শোনা যায়। আমরা যখন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তিটি তৈরি করছিলাম, তখন এই ‘আঙ্কেল’রা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিল আর বলেছিল, “এটার কী দরকার?” যখন আমরা হাই-স্পিড ট্রেনের কাজ শুরু করলাম, তখনও তারা বলল, “এটার কী দরকার?” যখন আমরা ইউপিআই ব্যবস্থা চালু করলাম, তখন সেই একই মানুষরা বলল, “কেন ইউপিআই? ইউপিআই-এর কী দরকার?” যখন আমরা চিপ তৈরির কথা বললাম, তখনও তারা বলল, “এটার কী দরকার?” যখন আমরা নতুন সংসদ ভবন তৈরি করলাম, তারা বলল, “এটার কী দরকার?” দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী আমাদের সাহসী সামরিক কমান্ডারদের স্মারক যখন আমরা তৈরি করলাম, তখনও তারা প্রশ্ন তুলল, “এটার কী দরকার ছিল?” কিন্তু ভারত এই সব ‘আঙ্কেল’-দের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে – দেশের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা করা থেকে ভারতকে কেউ আটকাতে পারবে না।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ ভারত এক ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। যে কাজগুলো আগে সম্পন্ন হতে কয়েক দশক সময় লাগত, এখন তা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে। আসুন, আপনাদের তথ্য-সহ আরেকটি উদাহরণ দিই। ভারতে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চলেছিল ১৯২৫ সালে। আপনাদের কলেজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, কিন্তু ট্রেনটি চলেছিল ১৯২৫ সালে। এরপর ২০১৪ সাল পর্যন্ত – অর্থাৎ ৯০ বছরে – রেললাইনের ৩০ শতাংশেরও কম অংশ বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় এসেছিল। অথচ মাত্র ১২ বছরের মধ্যে আমরা রেললাইনের প্রায় ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণ করে দেখিয়েছি। 

 

বন্ধুগণ,

 

ভারতের নীতিগত সিদ্ধান্তের এই গতি বিশ্ববাসী লক্ষ্য করছে এবং তা অনুধাবনও করছে। আর সেজন্যেই তাঁরা ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে। গত এক দশকে প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে চামড়া, বস্ত্র, ফলমূল ও শাকসবজি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চিংড়ি এবং আরও অনেক পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। নতুন বাজার তৈরি হওয়া এবং ভারতের পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্ক হ্রাসের অর্থ কী, তা আপনাদের চেয়ে ভালো আর কে জানে? এটি ভারতের যুবসমাজের জন্য সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ ২০১৩ সালের তুলনায় দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু এই পরিস্থিতি দেখে কিছু মানুষের অস্থিরতা ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। আপনারা নিশ্চয়ই ১৫ই আগস্টে আমার ভাষণ শুনেছেন। এমন মানুষদের জন্য আমি লাল কেল্লা থেকে এক ডোজ হোমিওপ্যাথি – একটি ছোট হোমিওপ্যাথিক বড়ি – দিয়েছিলাম। আর আপনারা জানেন, হোমিওপ্যাথির বৈশিষ্ট্যই হলো – ওষুধ খাওয়া শুরু করলে শুরুতে রোগের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। হোমিওপ্যাথির এটাই স্বভাব। তাই লাল কেল্লা থেকে আমি একটি হোমিওপ্যাথিক বড়ি দিয়েছিলাম – ‘দিমাগী(মানসিক) নকশাল’। এই ‘দিমাগী নকশাল’-এর চিকিৎসায়, যেমনটা আমি বলেছিলাম, শুরুতে রোগের প্রকোপ কিছুটা বাড়ে এবং তারপর নিরাময় প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঠিক সেভাবেই, যেইমাত্র আমি সেই ‘দিমাগী নকশাল’-এর বড়ি দিলাম, অমনি সব ‘দিমাগী নকশাল’ বেরিয়ে আসতে শুরু করল। আর যারা এই অসুস্থতাকে উসকে দিচ্ছে, এখন জনগণ তাদের আসল রূপও দেখতে পাচ্ছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি অনেক কথাই বলেছি; কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন – এতে আর এমন কী বড় ব্যাপার? ১৪০ কোটির দেশ, কাজটা তো সহজই ছিল; মোদী নতুন কী করলেন? কিন্তু কাজটা কি সত্যিই এত সহজ ছিল? আসুন, আপনাদের আরেকবার সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিই। স্কুলের দিনগুলোর কথা মনে করুন। ২০১৩ সালে যখন কেদারনাথে বিপর্যয় নেমে এল, তখন পুরো সরকারই যেন কেঁপে উঠেছিল। তারা বুঝে উঠতে পারছিল না কী করবে বা কীভাবে করবে। ২০০৮ সালে যখন ব্যাংকিং সংকট দেখা দিল, তখন তৎকালীন সরকার ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই সংকটের আড়ালে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেছিল; এমনকি সমস্যাটি সমাধানের সাহসও দেখায়নি। ভারতের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে তারা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। সেই ২০০৮ সালেই মুম্বাইতে যখন ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা হলো, তখন সরকার বাইরের চাপের মুখে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার মতো সাহসটুকুও দেখাতে পারেনি।

 

বন্ধুগণ,

 

গত ১২ বছরে দেশে অনেক বিপর্যয় এসেছে, আমরা বড় বড় ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা করেছি; কিন্তু দেশ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সেসব পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। গত ৬ বছরে অত্যন্ত বড় বড় সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমে এল করোনা মহামারি, যা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এরপর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। তারপর শুরু হলো বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যুগ। এরপর এল পশ্চিম এশিয়ার সংকট। প্রতিবারই বলা হয়েছে – এবার আর ভারত টিকবে না। আর যারা আমার ‘বিশেষ ভক্ত’ (সমালোচক), তারা এই ভেবে খুশি হতেন যে – এবার মোদী ফেঁসে গেছেন, এবার মোদীর পতন হবে, এবার তিনি ধূলিসাৎ হয়ে যাবেন। কিন্তু দেশের মানুষের আশীর্বাদের শক্তি এতটাই প্রবল যে, যারা ভারতের পতন চেয়েছিল, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা কখনোই পূরণ হয়নি।

 

বন্ধুগণ,

 

একবিংশ শতাব্দীতে এখন আমাদের সামনে নতুন নতুন সুযোগের এক জগৎ। আমি আনন্দিত যে আপনারা উচ্চাকাঙ্ক্ষী; কারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা পাঠ্যবই পড়ে শেখানো যায় না। উচ্চাকাঙ্ক্ষা আসে এমন এক পরিবেশ থেকে, যা আপনাকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে। আজ আমাদের তরুণ বন্ধুগণ বলে – আমি যদি কিছু করি, তবে স্টার্টআপ শুরু করব; কোম্পানি গড়লে তাকে ‘ইউনিকর্ন’ পর্যায়ে নিয়ে যাব। আমি মহাকাশ ও ড্রোনের মতো খাতে যুক্ত হব, বড় কিছু করে দেখাব। আমি অত্যাধুনিক এআই সমাধান তৈরি করব, কৃষিক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন আনব। তেরো বছর আগে, আপনাদের অগ্রজরা এমন স্বপ্ন দেখার কথাও ভাবতে পারতেন না। কিন্তু আজ আপনারা সেই স্বপ্ন দেখছেন, কারণ আজকের ভারতে সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়নের উপযোগী এক পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এখন সময় বড় লক্ষ্য নির্ধারণের এবং তা অর্জন করার। কিছুদিন আগেই লাল কেল্লা থেকে আমি কিছু কথা বলেছিলাম। আপনাদের সামনে আমি সেই কথাগুলোই আবার বলতে চাই। আসুন সংকল্প নিই – ভারতের কেন নিজস্ব কোনো বিশ্বমানের পরামর্শদাতা সংস্থা থাকবে না? আমাদের অ্যাকাউন্টিং ফার্ম, আইনি সংস্থা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিতে পারবে না? আমরা গর্বের সঙ্গে বলি যে, আজ ভারতীয়রা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয়রা যদি বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির নেতৃত্ব দিতে পারেন, তবে ভারতীয়দের তৈরি কোম্পানিগুলো কেন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে না?

 

বন্ধুগণ,

 

এসবই সম্ভব। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক এবং জ্ঞান – উভয়ই আপনাদের রয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের অনুপ্রেরণা – আপনাদেরও অনুপ্রেরণা – হলো এসআরসিসি কলেজের প্রতীক বা ক্রেস্ট। এতে দুটি চমৎকার প্রতীক রয়েছে। একটি হলো উদীয়মান সূর্য এবং অন্যটি হলো সমুদ্রের বুকে এগিয়ে চলা জাহাজ। সূর্য আমাদের দিকনির্দেশনা দেয়, আর জাহাজ সেই পথ ধরেই এগিয়ে চলে। আমাদের এমন নতুন পথে চলতে হবে যেখানে সূর্য আমাদের, সমুদ্র আমাদের; নৌকা আমাদের, নাবিকও আমাদের। উত্তাল ঢেউয়ের ওপর জয়ের স্বাক্ষর রাখার সাহস আমাদের। উড্ডয়ন আমাদের, আকাশও আমাদের। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার মোকাবিলা করার মনোবল আমাদের। স্বপ্ন আমাদের, সংকল্প আমাদের, আর ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর পতাকাও আমাদের। উন্নত ভারতের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের। আবারও, এই বিশেষ উপলক্ষে এসআরসিসি-র সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।

 

বন্দে মাতরম।

 

 

SC/SB/AS