পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কলের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনের শুরুতেই তিনি ক্যাপ্টেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং জানান, সমগ্র দেশ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করছে। প্রধানমন্ত্রী সংকটের মুহূর্তে ক্যাপ্টেনের সাহস, ধৈর্য এবং অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন, যার ফলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকেও এবং গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন নিজের জীবনের চেয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মান আরও বৃদ্ধি করেছেন। শ্রী মোদী বলেন, “আজ সমগ্র দেশ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে যে, আমরা ভারতীয়রা প্রাণ নেওয়ার মানুষ নই, আমরা প্রাণ রক্ষাকারী মানুষ।”
প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেনের পরিবারের সদস্য ভূপেন্দ্র ভাই, গীতা বহেন এবং সোনাল বহেনের সঙ্গে তাঁর আগের কথোপকথনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি গীতা বহেনের প্রশংসা করে বলেন, তিনি তাঁর সন্তানের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঞ্চার করেছেন। গীতা বহেন নিজেই যেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে আত্মস্থ করে তা জীবনে ধারণ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, ১৭ বছরের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বিমানটি নিচে নেমে যাচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও যাত্রীদের বাঁচানোর সংকল্প নিয়ে তিনি শেষবারের মতো দরজা খোলার চেষ্টা করেছিলেন। বেঁচে থাকার সেই কঠিন লড়াইয়ের সময় হনুমান চালিশা পাঠ করে তিনি যে আধ্যাত্মিক শক্তি পেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারও গভীরভাবে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ক্যাপ্টেনের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। শ্রী মোদী বলেন, “আপনার সাহসিকতাপূর্ণ কাজের কথা জানতে আজ সমগ্র বিশ্ব আপনার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। আপনার পরিবার সত্যিই দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ক্যাপ্টেনকে ঘিরে গড়ে ওঠা আবেগঘন সংহতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্যাপ্টেনের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য সাভরকুণ্ডলা থেকে ওয়াধওয়ান পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিশেষ প্রার্থনা ও আরতির আয়োজন করা হচ্ছে। সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটিকে ধৈর্য ধরে গ্রহণ করার জন্য ক্যাপ্টেনের দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেন তিনি। ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে ক্যাপ্টেন প্রতিদিন তাঁর দুই বছরের ছোট ছেলের সঙ্গে হনুমান চালিশা পাঠ করেন জেনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ক্যাপ্টেনকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সরকারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে যে অপরিসীম ভালোবাসা ও সহমর্মিতা পেয়েছেন, ক্যাপ্টেনের সেই অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাপ্টেনের সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সমস্ত ভারতীয় পাইলটের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করেছে। শ্রী মোদী বলেন, “আজ গান্ধী জয়ন্তী। অহিংসার প্রকৃত অর্থ কী, আপনি তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন।”
প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেনের ছোট সন্তান ববি ও জীবার খোঁজখবর নেন। তিনি ক্যাপ্টেনের বাবা-মা এবং তাঁর স্ত্রী সোনালবহেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক কথোপকথনের সময়ে তাঁদের অসাধারণ সংযম, দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তাঁদের আচরণে কোনও অভিযোগের সামান্যতম ছাপও ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেনকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি তাঁর জন্য সর্বদা একটি ফোন কল দূরে রয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা যখন সরাসরি দেখা করবেন, তখন ঘটনার খুঁটিনাটি ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে শুনবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সম্পূর্ণ ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং বলেন, সমগ্র দেশ তাঁর পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে।
বিস্তারিত দেখতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-
SC/SD/SKD
An unforgettable conversation with Captain Smit, filled with pride and emotions. pic.twitter.com/CCf46PKOWR
— Narendra Modi (@narendramodi) October 2, 2026