Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

টিভি-নাইনের ২০২৬ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

টিভি-নাইনের ২০২৬ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


নতুনদিল্লি, ২৩ মার্চ, ২০২৬

 

নমস্কার!  
সাম্প্রতিক সময়ে আমার টিভি নাইন ভারতবর্ষ দু-একবার দেখার সুযোগ হয়েছে। আজকাল আপনারা অনেক অনুষ্ঠান করছেন যুদ্ধ আর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপরই।  মনে হচ্ছে,  বড়ো বড়ো দেশগুলো টিভিনাইন-কে অনেক বেশি উপাদান সরবরাহ করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু সত্যি বলতে, বিশ্ব আজ যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুতর। এই পরিস্থিতির মধ্যে, টিভিনাইন নেটওয়ার্ক চিন্তাভাবনা করার জন্য একটি  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে। এই সম্মেলনে আপনারা সকলে “ভারত ও বিশ্ব” শীর্ষক বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করছেন। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই, এই সম্মেলনের জন্য শুভকামনা এবং উপস্থিত প্রত্যেক অতিথিকে স্বাগত জানাই।   

বন্ধুগণ

আজ, যখন বিশ্ব সংঘাতে জর্জরিত, যখন এই সংঘাতগুলির বিরূপ প্রভাব পৃথিবীজুড়ে অনুভূত হচ্ছে, সেই আবহে “ভারত ও বিশ্ব” নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে  ভারত এমন একটি দেশ যার অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০১৪-র আগের সময়কালকে পেছনে ফেলে ভারত নতুন আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলেছে। ভারত এখন আর চ্যালেঞ্জকে এড়িয়ে চলে না, বরং সরাসরি তার মোকাবিলা করে। গত ৫-৬ বছরের দিকে তাকান: মহামারীর পর, প্রতি  বছর চ্যালেঞ্জ বহুগুণে বেড়েছে। এমন একটি বছরও বাদ যায়নি, যে বছর  ভারত এবং ভারতীয়দের পরীক্ষা নেয়নি। এর মধ্যেও ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে ভারত প্রতিটি সংকট মোকাবিলা করে এগিয়ে চলেছে। এমনকি যুদ্ধের সময়েও, ভারতের নীতি, কৌশল এবং শক্তি দেখে বিশ্ব বিস্মিত হয়। আমাদের একটি প্রবাদ আছে: “সত্য সব সময় অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।” ২৮শে ফেব্রুয়ারি, যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে, সেই সময় থেকে ভারত কঠোর প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উন্নয়ন এবং আস্থার প্রতি সংকল্পবদ্ধ হয়ে এগিয়ে চলেছে। এই ২৩ দিনে ভারত সম্পর্ক স্থাপন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংকট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।    
 
বন্ধুগণ

আজ যখন বিশ্ব বহু শিবিরে বিভক্ত, ভারত তখন অভূতপূর্ব ও অকল্পনীয় সেতুবন্ধ তৈরি করছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পশ্চিমা বিশ্ব, দক্ষিণী বিশ্ব থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে, সকলের বিশ্বস্ত অংশীদার ভারত । কেউ কেউ জানতে চান, “আমরা কার পক্ষে?” তাদের উদ্দেশে আমার উত্তর খুব সোজা: আমরা ভারতের পক্ষে, আমরা ভারতের স্বার্থের পক্ষে, শান্তির পক্ষে এবং আলোচনার পক্ষে।  
  
বন্ধুগণ 

সংকটের এই আবহে , বিশ্বব্যাপী যখন সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, ভারত সেই সময়  বৈচিত্র্য  ও প্রাণবন্ত পরিস্থিতির এক মডেল সকলের কাছে হাজির করেছে। জ্বালানি, সার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—যা-ই হোক না কেন, নাগরিকদের কষ্ট যাতে কম হয় ভারত তার জন্য সব সময় উদ্যোগী হয়েছে এবং আজও তা অব্যাহত রয়েছে।    

বন্ধুগণ 

রাজনীতির ভিত্তি যখন জাতীয় নীতি হয়, তখন জাতির ভবিষ্যৎই প্রধান হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পায়, তখন মানুষ দেশের ভবিষ্যতের পরিবর্তে নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবে। ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে কী ঘটেছিল তা একবার মনে করে দেখুন। কংগ্রেস সরকারের আমলে পেট্রোল, ডিজেল এবং গ্যাসের মূল্য সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেস দেশের জন্য নয়, বরং নিজেদের ক্ষমতা নিয়ে চিন্তিত ছিল। তারা ১ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকার তেল বন্ড বাজারে নিয়ে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিজেও স্বীকার করেছিলেন, তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। তেল বন্ডের সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল, তা জেনেও যারা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সরকার চালাচ্ছিলেন, তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা বাঁচাতে।  এই সিদ্ধান্তের জন্য তক্ষুনি জবাবদিহি করতে হয় নি কারণ ২০২০ সালের পর থেকে সেটি পরিশোধ করার কথা ছিল।  

বন্ধুগণ

গত ৫-৬ বছরে আমাদের সরকার পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের সেই পাপ ধুয়েমুছে  সাফ করার কাজ করেছে। এই শুদ্ধিকরণের মূল্য কম ছিল না। এমন ধোলাই আগে কখনো কেউ  দেখেননি। ১ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকার ঋণের পরিবর্তে, সুদ যোগ হওয়ায় দেশকে ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ, আমাদের প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ দিতে হয়েছে। আজকাল কংগ্রেসের নেতারা বড় বড় ভাষণের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারেন—এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো টিভিনাইনকে খুশি করে—কিন্তু যখন এই সত্যটি সামনে আসে, তখন তারাও বাকরুদ্ধ হয়ে যান।  
 
বন্ধুগণ 

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আমি আজ লোকসভায় বক্তব্য রেখেছি। বিশ্বে এখন যেখানেই যুদ্ধ হচ্ছে, সেগুলি ভারতের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আজকের এই পারস্পরিক সংযুক্ত এক ব্যবস্থায়, যুদ্ধের প্রতিকূল প্রভাব থেকে কোনো দেশই মুক্ত থাকতে পারে না। অনেক দেশের পরিস্থিতি ইতোমধ্যে খুব গুরুতর হয়ে উঠেছে। আর এই পরিস্থিতিতে আমরা দেখছি, রাজনৈতিক স্বার্থে চালিত হয়ে কিছু ব্যক্তি, কিছু দল সংকটের এই সময়েও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার সুযোগ খুঁজছে। তাই, আমি টিভি নাইনের-এর মঞ্চ থেকে আবারও বলছি: এটি সংযম ও সংবেদনশীলতার সময়। মহামারীর মহা সংকটের সময় আমরা দেখেছি, যখন নাগরিকরা প্রতিকূল কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হন, তখন তার ফল অত্যন্ত কার্যকর হয় । সেই একই চেতনায় আমাদের এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।  
 
বন্ধুগণ 

বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট এই অস্থিরতার মধ্যেও ভারত তার অগ্রগতির গতি বজায় রেখেছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ২৩ দিনের দিকে যদি আমরা তাকাই, তাহলে দেখা যাবে দেশের পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ — সর্বত্র হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেলের গুরুত্বপূর্ণ করিডোরের উদ্বোধন, শিলচরে হাই-স্পিড করিডোরের শিলান্যাস, কোটায় একটি নতুন বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মাদুরাই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রদান—এই ধরনের বহু কাজ মাত্র এই ২৩ দিনেই হয়েছে। গত মাসেই শিল্প উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি বিরাট প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, এর অধীনে দেশজুড়ে ১০০টি প্লাগ-এন্ড-প্লে শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে। ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পকেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী বছরগুলিতে দেশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ১,৫০০ মেগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যোগ হবে। এই সময়ে, জল জীবন মিশন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থেও অনেক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত মাসেই, পিএম কিষাণ সম্মান নিধির অধীনে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি পাঠানো হয়েছে। আমাদের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ সংস্থা  এবং রপ্তানিকারকদের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি ত্রাণ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। এই সমস্ত পদক্ষেপই প্রমাণ করে, বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশ কত দ্রুত কাজ করে চলেছে।  
 
বন্ধুগণ

ম্যানেজমেন্ট-এর জগত একটি নীতি মেনে চলে : “কোন কিছু যখন পরিমাপ করা হয়, তখন তা পরিচালনা করা যায়।” কিন্তু আমি এর সঙ্গে আরও একটি ভাবনা যোগ করতে চাই: “যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তা উন্নত হয় এবং পরিশেষে রূপান্তরিত হয়।” এর কারণ মূল্যায়ন সচেতনতা তৈরি করে, জবাবদিহিতার ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মূল্যায়ন আগামী দিনে সম্ভাবনাকে তৈরি করে।    

বন্ধুগণ

আপনি যদি ২০১৪ সালের আগের ১০-১১ বছর এবং পরের ১০-১১ বছর মূল্যায়ন করেন, তাহলে দেখতে পাবেন কীভাবে ভারত এই নীতিটি অনুসরণ করে প্রত্যেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে । আগে, দৈনিক প্রায় ১১-১২ কিলোমিটার মহাসড়ক তৈরি করা হতো; আজ ভারত প্রতিদিন প্রায় ৩০ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ করছে। আগে, বন্দরে জাহাজ এলে পণ্য ওঠা নামার কাজ করতে  ৫-৬ দিন লেগে যেত; আজ সেই একই কাজ ২ দিনেরও কম সময়ে করা যায়।  আগে, নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ সংস্কৃতি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হতো না। ২০১৪ সালের আগে, ভারতে মাত্র ৪০০-৫০০টি স্টার্টআপ সংস্থা ছিল। আজ, ভারতে ২ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ সংস্থা রয়েছে। আগে, ডাক্তারি পড়ার আসন সংখ্যা সীমিত ছিল। মাত্র ৫০-৫৫ হাজার এমবিবিএস আসন ছিল।  আজ এই সংখ্যা বেড়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি হয়েছে। আগে, লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন। দেশে মাত্র ২৫ কোটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল। আর এখন জন ধন যোজনার মাধ্যমে ৫৫ কোটিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আগে দেশে বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭০-এরও কম ছিল। বর্তমানে বিমানবন্দরের সংখ্যা বেড়ে ১৬০-এ পৌচেছে।     
  
বন্ধুগণ 
 
পরিকল্পনা আগেও করা হত, এখনও করা হয়।  কিন্তু পার্থক্য হলো সেই সব পরিকল্পনার  ফল এখন অনুভূত হয়। আগে গতি ছিল ধীর, আজ ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আগে সম্ভাবনাগুলো দিনের আলো দেখতো না, আজ বিভিন্ন  সংকল্প সাফল্যে পরিণত হচ্ছে। আর তাই বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌচাচ্ছে যে  ভারত এখন নতুন দেশ হয়ে উঠেছে। নিজের উন্নয়নে সে কোনো উদ্যোগ থেকেই পিছিয়ে আসে না। 

বন্ধুগণ

অতীতে উন্নয়নের যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছিল, আজ তাকে  সুযোগে পরিণত করাই আমাদের উদ্দেশ্য। যেমন, পূর্ব ভারতের কথাই ধরুন। পূর্ব ভারত সম্পদে সমৃদ্ধ, কিন্তু সেখানে যারা শাসন করতেন, তাঁদের  দশকের পর দশকের অবহেলা এর উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি এখন বদলাচ্ছে। আসামে, যেখানে একসময় গুলির শব্দ শোনা যেত, আজ সেখানে একটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট তৈরি হচ্ছে। ওড়িশায় সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে পেট্রোকেমিক্যাল পর্যন্ত নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠছে। বিহারে, যেখানে ৬-৭ দশক ধরে গঙ্গার উপর মাত্র একটি বড় সেতু নির্মিত হয়েছিল, সেখানে গত দশকে পাঁচটিরও বেশি নতুন সেতু তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, একসময় দেশি পিস্তলের জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেই রাজ্য মোবাইল ফোন উৎপাদনে বিশ্বব্যাপী নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছে।     
 
বন্ধুগণ  

পূর্ব ভারতের আরেকটি প্রধান রাজ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ একসময় ভারতের সংস্কৃতি, শিক্ষা, শিল্প এবং বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। গত ১১ বছরে, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আজ সেখানে একটি নিষ্ঠুর সরকার ক্ষমতায় রয়েছে , যারা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। টিভি নাইন বাংলার দর্শকরা জানেন, বাংলায় এই নিষ্ঠুর সরকার আয়ুষ্মান প্রকল্প আটকে দিয়েছে। পিএম সূর্য ঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প আটকে দেওয়া হয়েছে। পিএম আবাস যোজনা আটকে রাখা হয়েছে। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে না। সোজা  কথায়, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার না দিয়ে, এই নিষ্ঠুর সরকার তার রাজনৈতিক স্বার্থকে চরিতার্থ করছে। 

বন্ধুগণ 
  
যে দল দেশে এই ধরনের রাজনীতির সূচনা করেছে, তারা নিজেদের পাপ থেকেও রেহাই পাবে না —সেই দলটি হলো কংগ্রেস। কংগ্রেস রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্যই হলো সম্ভাব্য সব উন্নয়নের বিরোধিতা করা। আমি যখন গুজরাটে ছিলাম, তখন থেকেই কংগ্রেস এই কাজ করে আসছে। যখন গুজরাটের মানুষ বছরের পর বছর ধরে আমাদের আশীর্বাদ করেছে, কংগ্রেস সেই রায় মেনে নেয়নি। তারা গুজরাটের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সেই রাজ্যের উন্নয়নকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, এবং যখন সেই একই আস্থা সারাদেশে পরিলক্ষিত হল, তখন কংগ্রেসের সেই বিরোধিতা আঞ্চলিকস্তর থেকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেল।  

বন্ধুগণ 

রাজনৈতিক বিরোধিতা যখন উন্নয়নের বিরোধিতায় পরিণত হয়, যখন সমালোচনা দেশের নানা সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তখন সেটি শুধু সরকার বিরোধিতা থাকে না—তা দেশের  উন্নয়নের জন্য  অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতি তৈরি করে। আজ কংগ্রেস এই মানসিকতার দাস হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে এসে পৌচেছে, যেখানে দেশের প্রতিটি সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয় এবং প্রার্থনা করা হয় যাতে সব উদ্যোগ ব্যর্থ  হয়। কোভিডের সময়, যখন দেশ নিজেই টিকা তৈরি করল, কংগ্রেস তাতে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। যখন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নিয়ে আলোচনা হয়, তারা বলেছিলেন এটি সফল হবে না, একে ‘কাগজের বাঘ’ বলে উপহাস করে। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ যখন চালু হল, তারা সেটিকে নিয়েও ঠাট্টা করে। কিন্তু কংগ্রেসের দুর্ভাগ্য যে সব ক্ষেত্রে  ভারতের উদ্যোগগুলি সফল হয়েছে, ভারত প্রতিটি প্রতিবন্ধকতাকে নিজের সাফল্যে পরিণত করেছে। আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচির এক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্টে ভারত বিশ্বসেরা। উৎপাদন এবং স্টার্টআপের ক্ষেত্রে ভারত নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে।  

বন্ধুগণ   

গণতন্ত্রে বিরোধিতা অপরিহার্য। কিন্তু বিরোধিতা এবং বিদ্বেষের মধ্যে একটি সীমারেখা আছে। সরকারের বিরোধিতা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু কংগ্রেসের দেশের বদনাম করা উদ্দেশ্য কি, সেই প্রশ্ন আজ উঠছে। বিরোধিতা যখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে দেশের  সাফল্যগুলিও তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, তখন সেটা আর রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেটা তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। সম্প্রতি গ্লোবাল এআই শীর্ষ সম্মেলনে আমরা এর প্রমাণ দেখেছি। সারা বিশ্ব যখন ভারতে সমবেত হয়েছিল, কংগ্রেস নেতারা  সেখানে গিয়ে প্রতিবাদে নিজেদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। এতেই বোঝা যায় দেশের সম্মান নিয়ে তারা কতটা চিন্তিত। তাই আজ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, কারণ রাজনীতির উপরে রয়েছে দেশ এবং দেশের উন্নয়ন।   
 

বন্ধুগণ

আজকের দিনটিও আমাদের সেই পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। আজকের এই দিনেই শহীদ ভগৎ সিং, শহীদ রাজগুরু এবং শহীদ সুখদেব দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।  আজ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ডঃ রাম মনোহর লোহিয়ারও জন্মবার্ষিকী। এই মানুষগুলি সর্বদা নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশকে স্থান দিয়েছেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে রাখার এই অনুপ্রেরণাই ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবে। এই অনুপ্রেরণাই ভারতকে আত্মনির্ভর করে তুলবে। টিভি নাইন শীর্ষ সম্মেলন ভারতের আত্মবিশ্বাস এবং ভারত ও ভারতীয়দের প্রতি বিশ্বের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে — এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আপনাদের সকলের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল, এবং আপনাদের মধ্যে এসে আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।      

নমস্কার! 

 

SC/CB