Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ১৮,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ১৮,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন।


নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন। সমাবেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের জন্য উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এই অনুষ্ঠানে সড়ক, রেলপথ এবং বন্দর পরিকাঠামো সম্পর্কিত ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রকল্প জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতে নতুন গতি সঞ্চার করবে, বাণিজ্য ও শিল্পকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে খড়গপুর-মোরগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে পশ্চিমবঙ্গের অনেক অংশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর নির্মিত প্রধান সেতুগুলির কথাও উল্লেখ করেন। এগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। শ্রী মোদী বলেন “এই রূপান্তরমূলক প্রকল্পগুলির জন্য আমি পশ্চিমবঙ্গ এবং সমগ্র পূর্ব ভারতের জনগণকে অভিনন্দন জানাই ”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের জন্য দেশজুড়ে একটি জোরদার প্রচার চালানো হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গ যেন এই অভিযানে পিছিয়ে না থাকে সরকার সেজন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। কলাইকুন্ডা-কানিমহুলি শাখায় স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং সিস্টেম জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন “এই উদ্যোগগুলি ব্যস্ত রেল পথের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, ভ্রমণকে নিরাপদ করবে এবং যাত্রীদের জন্য গতি ও সুবিধা বৃদ্ধি করবে” ।

প্রধানমন্ত্রী কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম এবং সিউড়ি এই ছয়টি স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন হিসেবে উদ্বোধনের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন বাংলার মহান সংস্কৃতি এখন এই স্টেশনগুলিতে আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে এবং আরও বেশ কয়েকটি স্টেশন পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। পুরুলিয়া এবং আনন্দ বিহার টার্মিনালের মধ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবারও উদ্বোধন করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন “এই ট্রেন পরিষেবা থেকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের জনগণই নয়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির জনগণও উপকৃত হবেন”।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সড়ক ও রেল সংযোগের মতো বন্দর এবং জল পরিবহনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে, পূর্ব ভারতের এই বিশাল সম্ভাবনাকে মূলত অবহেলিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ, জলপথ বাণিজ্য ও শিল্প অগ্রগতির জন্য নতুন পথ খুলে দেওয়া দিচ্ছে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন এবং উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কলকাতা এবং হলদিয়া বন্দর দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ভারতে বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র এবং হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের যান্ত্রিকীকরণ কার্গো্র কাজকর্মকে ত্বরান্বিত করবে, বন্দরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়াও, কলকাতা ডক সিস্টেমে বাসকুল ব্রিজের সংস্কার এবং খিদিরপুর ডকে কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও করা হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন”এই সমস্ত প্রকল্প পূর্ব ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে”।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে সড়ক, রেলপথ এবং বন্দর সম্পর্কিত নতুন প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি আধুনিক ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করছে। তিনি বলেন এই প্রকল্পগুলির সুবিধা কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সমাজের প্রতিটি অংশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। পর্যটনের মতো ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় শিল্প ও পরিষেবা নতুন গতি পাবে। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে পথ দেখানোর ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি আধুনিক পরিকাঠামো ও শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি উন্নত বাংলার ভিত্তি তৈরি করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শ্রী মোদী বলেন, “ যে বাংলা, সর্বদা ভারতকে পথ দেখিয়েছে,তা আবারও ‘বিকশিত বাংলা’ হয়ে ওঠার হৃত গৌরব অর্জন করবে এই আমাদের সঙ্কল্প”।

 

SC/PM/NS…